সংবাদদাতা , ২৭ জানুয়ারী : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার থেকে রাজ্যে শুরু হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া। সল্টলেকের আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র ভবনে কড়া নিরাপত্তায় ইন্টারভিউ নেবেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের আধিকারিকরা। প্রথম দুই দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার ও বুধবার সুযোগ পাবেন কলকাতার প্রার্থীরা। এরপর পর্যায়ক্রমে ঝাড়গ্রাম ও জলপাইগুড়ির প্রার্থীদের ডাক দেওয়া হয়েছে। পর্ষদ সূত্রে খবর, মোট ১৩ হাজার ৪২১টি শূন্যপদের মধ্যে সিংহভাগই অর্থাৎ প্রায় সাড়ে দশ হাজার পদ বাংলা মাধ্যমের জন্য সংরক্ষিত। ইংরেজি মাধ্যমের ইন্টারভিউ পর্ব ইতিমধ্যেই চুকিয়ে ফেলেছে পর্ষদ।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ২০১৪ সালের টেট উত্তীর্ণদের শংসাপত্র প্রদানের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে পর্ষদ। মঙ্গলবার পর্ষদ জানিয়েছে, শংসাপত্র পাওয়ার জন্য অনলাইন আবেদনের সময়সীমা আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে যাঁরা ইতিমধ্যে নথিপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের নতুন করে কোনও আবেদন করতে হবে না।
শিক্ষক মহলে এই শংসাপত্র এখন কার্যত ‘সুরক্ষাকবচ’। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় অনুযায়ী, প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতা করতে গেলে টেট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। ফলে কর্মরত শিক্ষকদের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এবং নতুন প্রার্থীদের যোগ্যতামান প্রমাণে এই শংসাপত্রই হবে মূল চাবিকাঠি। অন্যদিকে, ২০১২ সালের টেট উত্তীর্ণ ১৮ হাজার প্রার্থীর কাছে শংসাপত্র না থাকলেও তাঁদের স্বস্তিতে রেখেছে পর্ষদের প্রকাশিত তালিকা। সেই তালিকার ভিত্তিতেই তাঁরা নিজেদের নথিপত্র পেশ করতে পারবেন। একইসঙ্গে আদালতের নির্দেশে ২০২০-২২ শিক্ষাবর্ষের প্রায় দু’হাজার ডিএলএড উত্তীর্ণ প্রার্থীর তালিকাও প্রকাশ করেছে পর্ষদ, যা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাঁদের অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত করল।