বিশেষ সংবাদদাতা, বডোদরা: বিরাট কোহলিরা যা পারেননি, স্মৃতি মন্ধানারা কি সেটাই করে দেখাবেন? গত বারের চ্যাম্পিয়ন তাঁরা। আর এ বার যে ‘রয়্যাল’ মেজাজে টুর্নামেন্ট শুরু করেছেন, তাতে ট্রফি ধরে রাখাটা কেবল সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বোদ্ধারা। সোমবার বডোদরায় গুজরাত জায়ান্টসকে ৬১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে মেয়েদের আইপিএল (WPL)-এর প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
অশ্বমেধের ঘোড়া ছুটছেই টুর্নামেন্টের প্রথম পর্ব নভি মুম্বইয়ে শেষ করে দ্বিতীয় পর্বের খেলা শুরু হয়েছে বডোদরার কোটাম্বি স্টেডিয়ামে। ভেন্যু বদলালেও বদলায়নি আরসিবি-র জয়ের অভ্যাস। টানা পাঁচটি ম্যাচ। পাঁচটিতেই জয়। ১০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে বাকিদের থেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে স্মৃতি মন্ধানার দল। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে তাঁরা এগিয়ে রয়েছে পাক্কা ৬ পয়েন্টে।
গৌতমী-রিচার ব্যাটে ঝড় এদিন টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য নড়বড়েই হয়েছিল বেঙ্গালুরুর। ইনিংসের গোড়াতেই গ্রেস হ্যারিস ও জর্জিয়া ভলকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। তবে হাল ছাড়েননি অধিনায়ক স্মৃতি। গৌতমী নায়েকের সঙ্গে জুটি বেঁধে বিপর্যয় সামাল দেন তিনি। স্মৃতি ২৩ বলে ২৬ রান করে ফিরলেও, ২২ গজে ঝড় তোলেন গৌতমী এবং রিচা ঘোষ। সাতটি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো গৌতমীর ৫৫ বলে ৭৩ রানের ইনিংসই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শেষ দিকে রিচা ঘোষের বিস্ফোরক ব্যাটিং (২০ বলে ২৭) এবং রাধা যাদবের ক্যামিও ইনিংসে ভর করে ২০ ওভারে ১৭৮/৬ স্কোড়া বোর্ডে তোলে আরসিবি।
তাসের ঘর গুজরাত ১৭৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বেলাইন গুজরাত। আরসিবি-র বোলার সায়লী সাতঘেরের দাপটে দাঁড়াতেই পারেনি প্রতিপক্ষ। বেথ মুনি (৩) থেকে সোফি ডিভাইন (০)— তারকারা ফিরলেন প্যাভিলিয়নে। মাঝে অ্যাশলে গার্ডনার একাই লড়াই চালিয়ে ৫৪ রান করলেও, তা দলের হারের ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কোনো কাজে আসেনি। উল্টোদিকে কোনো সতীর্থের সঙ্গ না পেয়ে অসহায়ভাবে হার মানতে হয় তাঁকে। শেষ পর্যন্ত ১১৭/৮ রানেই থমকে যায় গুজরাতের ইনিংস। সায়লী ২১ রানে ৩ উইকেট ও নাদিন ডি ক্লার্ক ১৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে জয়ের পথ প্রশস্ত করেন।
টানা পাঁচ জয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আরসিবি। এখন দেখার, অপরাজিত থেকেই ফাইনালে ট্রফি হাতে তুলতে পারেন কি না স্মৃতিরা।