নিউজ ডেস্ক: অস্ত্রোপচারের জন্য রোগিণীর পেট কাটার পর হঠাৎই মাঝপথে কাজ থামিয়ে দিলেন চিকিৎসক! ‘অপারেশন জটিল’— এই অজুহাতে রোগিণীর পেট সেলাই করে দিয়ে ফের দু’মাস পর আসার পরামর্শ দিলেন তিনি। বনগাঁ পুরসভা এলাকার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে এই নজিরবিহীন ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে পরিবার। অভিযুক্ত চিকিৎসক তমীশা পানিগ্রাহী ও সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বনগাঁর পোলতার বাসিন্দা বছর ৪৩-এর জয়শ্রী অধিকারীর জরায়ুতে টিউমার ধরা পড়েছিল। গত দু’মাস ধরে তিনি চিকিৎসক তমীশা পানিগ্রাহীর অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ মতোই শনিবার শহরের একটি নার্সিংহোমে তাঁকে অস্ত্রোপচারের জন্য ভর্তি করা হয়। রবিবার সকালে তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অ্যানাস্থেশিয়া দিয়ে পেট কাটাও হয়। কিন্তু অভিযোগ, অস্ত্রোপচার সম্পন্ন না করেই চিকিৎসক বাইরে বেরিয়ে এসে জানান, বিষয়টি অত্যন্ত জটিল এবং ওই নার্সিংহোমে এই অপারেশন করা সম্ভব নয়। এরপরই তড়িঘড়ি রোগিণীর পেট সেলাই করে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন জয়শ্রীবাবুর পরিজনরা। তাঁর স্বামী সুজিত অধিকারীর প্রশ্ন, “যদি অপারেশন জটিলই হয়, তবে পেট কাটার আগে কেন তা বোঝা গেল না? কেন আমার স্ত্রীকে এই শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ফেলা হল?” যদিও চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডাক্তার তমীশা পানিগ্রাহী। তাঁর দাবি, পেট কাটার পর দেখা যায় সমস্যাটি প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি গভীর, তাই রোগিণীর প্রাণের ঝুঁকি না নিতেই তিনি অস্ত্রোপচার বন্ধ করেন। বনগাঁ থানা সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্য ভবনকে জানানো হয়েছে।