নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নতুন এক জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ (Under Adjudication) হিসেবে রাখা হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম শেষ পর্যন্ত তালিকায় থাকবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, নাম বাদ পড়লেও পুনরায় আবেদনের সুযোগ থাকছে। এজন্য গঠন করা হয়েছে ১৯টি বিশেষ ট্রাইবুনাল।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের পরামর্শে এই ট্রাইবুনালগুলি গঠিত হয়েছে। ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে চলা এই ট্রাইবুনালগুলিতে ভোটাররা তাঁদের দাবি ও আপত্তি জানাতে পারবেন। অনলাইন এবং অফলাইন— দুই মাধ্যমেই আবেদনের সুবিধা রাখা হয়েছে:
-
অনলাইন আবেদন: ভোটাররা সরাসরি কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://ecinet.eci.gov.in অথবা ECINET অ্যাপের মাধ্যমে আপিল করতে পারবেন।
-
অফলাইন আবেদন: নিকটবর্তী ডিএম (DM), এসডিও (SDO) বা এডিএম (ADM) অফিসে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথিসহ আবেদন জমা দেওয়া যাবে। সেখান থেকে তথ্যগুলি ডিজিটালাইজ করে পোর্টালে আপলোড করার ব্যবস্থা করবে প্রশাসন।
রাজ্যজুড়ে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ প্রাক্তন বিচারপতিদের। যেমন, উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতার দায়িত্বে রয়েছেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম। দক্ষিণ ২৪ পরগনার দায়িত্বে প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগ এবং পূর্ব মেদিনীপুরের জন্য থাকছেন প্রাক্তন বিচারপতি তপন সেন। একইভাবে কোচবিহারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন বিচারপতি প্রণব কুমারকে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের ট্রাইবুনাল সামলাবেন প্রাক্তন বিচারপতি দীপক সাহা রায়। ভোটের আগেই এই সমস্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি করে একটি স্বচ্ছ ভোটার তালিকা নিশ্চিত করাই এখন কমিশনের মূল লক্ষ্য।