নিউজ ডেস্ক: এসআইআর (SIR) পর্বে কাজ করতে করতে নাজেহাল দশা হয়েছিল তাঁদের। এবার খোদ ভোটের দিনেও নিস্তার নেই বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-দের। কমিশনের নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবার ভোটের দিন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে ‘ভোটার্স অ্যাসিস্ট্যান্স বুথ’ বা ভিএবি (VAB) তৈরি করে সেখানে বসতে হবে বিএলও-দের। নির্বাচন কমিশনের এই ‘তুঘলকি’ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইতিমধ্য়েই সরব হয়েছেন সরকারি কর্মীদের একাংশ।
কমিশন সূত্রে খবর, আগে বিএলও-দের কাজ ছিল ভোটার স্লিপ বিলি করাতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু এবার তাঁদের ভোটকেন্দ্রের বাইরে নির্দিষ্ট বুথে বসে ভোটারদের বুথ নম্বর ও ক্রমিক নম্বর খুঁজে দিতে সাহায্য করতে হবে। ইআরও-নেট (ERO-Net) মারফত ইংরেজি বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো তালিকা দেখে এই কাজ করতে হবে তাঁদের। তবে এই বাধ্যতামূলক উপস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কর্মীরা। বিএলও-দের প্রশ্ন, ভোটের দিন যদি কোনও অশান্তি বা হিংসার ঘটনা ঘটে, তবে তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে? উত্তর কলকাতা থেকে যাদবপুর— সর্বত্রই বিএলও-দের গলায় একই সুর, “নিরাপত্তার কোনও স্পষ্ট গাইডলাইন না রেখেই কীভাবে আমাদের বুথের বাইরে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে?”
অন্যদিকে, নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে রাজ্যে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। জানা গিয়েছে, এই বিধানসভা নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২৪০০ কোম্পানি আধাসেনা নামানো হচ্ছে। বর্তমানে রাজ্যে ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী রয়েছে। ১৭ এপ্রিলের মধ্যে আরও ৩০০ কোম্পানি এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে আরও ১৬২০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে এসে পৌঁছবে। বিএলও-দের ক্ষোভ আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই তৎপরতার আবহে রাজ্য রাজনীতির পারদ এখন তুঙ্গে।