নিউজ ডেস্ক: খোদ মেডিক্যাল কলেজ যে চিকিৎসা করতে অস্বীকার করল, সেই ‘অসাধ্য’ সাধন করলেন এক অখ্যাত গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক। জেলা হাসপাতালের রেফার-রোগে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের এই ঘটনা। দুই জেলার সীমানা পেরিয়ে এক চিকিৎসকের তৎপরতায় প্রাণ ফিরে পেল বছর তিনেকের এক শিশু।
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার সন্ধ্যায়। কোচবিহার-১ ব্লকের পুন্ডিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ সরকারের ২ বছর ৯ মাসের কন্যা সন্তান খেলনা বেলুনের টুকরো নাকে ঢুকিয়ে ফেলে। মা বাড়ি ফিরে দেখেন শিশুর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে এবং নাকের ফুটোয় বেলুন আটকে রয়েছে। তড়িঘড়ি শিশুটিকে পুন্ডিবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে সেখান থেকে তাকে কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, মেডিক্যাল কলেজের এমারজেন্সি বিভাগে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বসিয়ে রাখার পর চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, তাঁরা এই চিকিৎসা করতে পারবেন না। এক্স-রে করার পর শিশুকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে দায় সারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আতঙ্কিত পরিবার শেষমেশ প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের পরামর্শে পাশের জেলা আলিপুরদুয়ারের যশোডাঙা গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছায়। সেখানে কর্মরত চিকিৎসক প্রণব মণ্ডল কোনও দেরি না করেই শিশুটিকে পরীক্ষা করেন এবং অস্ত্রোপচার ছাড়াই বিশেষ তৎপরতার সঙ্গে নাক থেকে বেলুনের টুকরোটি বের করে আনেন। বর্তমানে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ। যেখানে একটি মেডিক্যাল কলেজের পরিকাঠামো হার মানল, সেখানে গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এই সাফল্য কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ঘটনায় চিকিৎসক প্রণব মণ্ডলের মানবিকতা ও সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন দুই জেলার মানুষ।