মুম্বই: কপ্টার-দুর্ঘটনায় অন্ধ্রের রাজশেখর রেড্ডি কিংবা হেলিকপ্টার ভেঙে অরুণাচলের দোর্জি খাণ্ডু— ভারতীয় রাজনীতির সেই সব মর্মান্তিক স্মৃতি উসকে দিয়ে চলে গেলেন অজিত পওয়ার। বুধবার সকালে মহারাষ্ট্রের বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণের ঠিক আগের মুহূর্তে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অজিত পওয়ারের ব্যক্তিগত বিমানটি। ভেঙে পড়ার পর মুহূর্তেই তাতে আগুন ধরে যায়। বিমানে থাকা মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী-সহ পাঁচ জনেরই মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিজিসিএ।
এনসিপি সূত্রে খবর, জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারের জন্য বুধবার সকালেই মুম্বই থেকে বারামতীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন শরদ পওয়ারের ভ্রাতুষ্পুত্র। সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ বারামতী বিমানবন্দরের রানওয়েতে নামার কথা ছিল বিমানটির। বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শিবাজি তওয়ারে জানান, অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ের একধারে গিয়ে ছিটকে পড়ে বিমানটি। সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে সেটি। দমকল পৌঁছনোর আগেই আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় গোটা বিমানকে।
সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, অজিত পওয়ার ছাড়াও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর দুই নিরাপত্তা কর্মী এবং বিমানের পাইলট ও ফার্স্ট অফিসার। অজিতের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কিরণ গুজর এই দুঃসংবাদটি নিশ্চিত করেছেন। পাহাড় ও জঙ্গল ঘেরা এলাকায় এই দুর্ঘটনার পিছনে যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি দৃশ্যমানতার সমস্যা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে ভারতের উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ।
অজিত পওয়ারের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে মহারাষ্ট্র তথা দেশের রাজনৈতিক মহলে। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসকে ফোন করে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মারাঠা রাজনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং ‘মহাজুটি’ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ শরিক অজিতের এই আকস্মিক প্রয়াণ মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করল।