নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া ও অশোকনগর এলাকায় বিচ্ছিন্ন অশান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে। সোমবার রাত থেকে তৃণমূলের একাধিক দলীয় কার্যালয় এবং জনপ্রতিনিধিদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। তবে এই পরিস্থিতিতে নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল গেরুয়া শিবির। দলের জয়ী প্রার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভাঙচুর বা হিংসার ঘটনায় কোনও বিজেপি কর্মীর নাম জড়ালে দল তাঁর পাশে দাঁড়াবে না।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার রাতে অশোকনগর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর টুম্পা সরকার এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্জয় রাহার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। আতঙ্কে ঘরছাড়া হতে হয়েছে অনেককেই। শুধু শহর নয়, গ্রামাঞ্চলেও বাঁশপুল পঞ্চায়েতের প্রধান পূরবী দে-র বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। হাবড়া পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডেও তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুর ও ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলার খবর মিলেছে। হাবড়া পুরসভার চেয়ারম্যান নারায়ণচন্দ্র সাহা এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের লজ্জা’ বলে অভিহিত করেছেন।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আসরে নামেন হাবড়ার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল। ফেসবুক লাইভে এসে তিনি সরাসরি দলীয় কর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কোনও বিজেপি কর্মী গণ্ডগোল বা ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না। দল এই ধরনের কাজকে বিন্দুমাত্র সমর্থন করে না। কেউ জড়ালে সেটা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত দায়, দল তাঁর দায়িত্ব নেবে না।” বিজেপি নেতৃত্ব প্রশাসনকেও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, রাজনৈতিক রং না দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে যেন কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বারাসতের বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ও জানিয়েছেন, অশান্তি রুখতে তাঁদের অবস্থান অত্যন্ত কড়া। পুলিশের পাশাপাশি দলীয় স্তরেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাবড়া ও অশোকনগর জুড়ে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অশান্তি সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।