নিউজ ডেস্ক: পাহাড়ের রাজনীতিতে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে কি ফের বিজেপির শরণাপন্ন হচ্ছেন বিমল গুরুং? আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ের তিনটি আসনে নিজেদের প্রার্থী না দিয়ে বিজেপিকে সমর্থনের পথেই হাঁটতে পারে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। রাজনৈতিক মহলের মতে, একুশের নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে জোট করেও আশানুরূপ ফল না মেলায় এবং সাম্প্রতিক পঞ্চায়েত নির্বাচনে অনীত থাপার ঝড়ে জমি হারানোয়, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবার মোদী-শাহের ওপরেই ভরসা রাখছেন বিমল-রোশনরা।
সম্প্রতি দিল্লির দরবারে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মোর্চা নেতৃত্ব। সঙ্গে ছিলেন বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ট। পাহাড় সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান এবং ১১টি জনগোষ্ঠীকে তপশিলি উপজাতির মর্যাদা দেওয়ার পুরনো দাবিগুলো ফের ঝালিয়ে নিয়েছেন তাঁরা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পাহাড়ের বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের প্রার্থী দাঁড় করিয়ে জামানত জব্দের ঝুঁকি নিতে চাইছেন না গুরুং। বরং বিজেপির হাত ধরে সমীকরণ সাজিয়ে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখাই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য।
দলের সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি অবশ্য এখনই চূড়ান্ত কথা বলতে নারাজ। তিনি জানিয়েছেন, “দলে আলোচনা চলছে, এখনও শেষ সিদ্ধান্ত হয়নি।” অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ট বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে গিয়ে জানিয়েছেন, মোর্চা কাকে সমর্থন করবে তা তাদের নিজস্ব বিষয়। উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল থেকে লোকসভা ভোটে বিজেপিকে সমর্থন করলেও ২০১১ বা ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ের তিনটি আসনে লড়াই করেছিল মোর্চা। কিন্তু ২০১৭-র আন্দোলন এবং পরবর্তী দীর্ঘ আত্মগোপন বিমলের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধস নামিয়েছে, যা একুশের বিধানসভা ও চব্বিশের লোকসভা পরবর্তী সময়ে আরও স্পষ্ট হয়েছে।