নিউজ ডেস্ক: বুধবারের পর বৃহস্পতিবার বিকেলেও প্রবল ঝড়বৃষ্টি আর বজ্রপাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেল আসানসোল, চিত্তরঞ্জন, রানিগঞ্জ ও জামুড়িয়া শিল্পাঞ্চল। বুধবার বিকেলে প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর দাপটে গোটা শিল্পাঞ্চল জুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেঙে পড়েছে বহু প্রাচীন গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি, যার জেরে রাতভর বিদ্যুৎহীন ছিল বিস্তীর্ণ এলাকা।
রানিগঞ্জের তিরাট গ্রাম এলাকায় দু’টি টালির বাড়ির উপরে গাছ ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ায় উড়ে গিয়েছে একটি টিনের চালার বাড়ি এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পঞ্চায়েত নির্মিত একটি শৌচালয়। বক্তারনগর এলাকায় একটি চলন্ত টোটোর উপরে তালগাছ ভেঙে পড়লে টোটোটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়, তবে অল্পের জন্য রক্ষা পান তিন যাত্রী। এ ছাড়া বহু পুরোনো গাছ উপড়ে পড়ে বক্তারনগর ও জামুড়িয়ার সার্থকপুর এলাকায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। ছিড়ে যায় বিদ্যুতের তার, ফলে জামুড়িয়া ও রূপনারায়ণপুরের একাধিক এলাকায় বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দিনভর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
আসানসোলের বোতল মসজিদ এলাকায় একটি বিশালাকার গাছ বিদ্যুতের খুঁটির উপরে আছড়ে পড়ায় গোটা এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ দপ্তর বা পুরসভা গাছ সরিয়ে মেরামতির কোনও উদ্যোগ না-নেওয়ায় বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক করার দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আসানসোলের জিটি রোডে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসী। তৃণমূল নেতা রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলে এই অবরোধ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না-থাকায় পানীয় জলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। পরে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ গিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে।
বিদ্যুৎ দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি থেকে বড় গাছ সরানোর মতো পরিকাঠামো তাদের নেই, তাই পুরসভাকে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্য দিকে, আসানসোল পুরসভা জানিয়েছে, বুধবার রাত থেকেই শহর পরিষ্কারের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপুল হওয়ায় সব জায়গায় পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ফের বৃষ্টি শুরু হওয়ায় উদ্ধারকাজে নতুন করে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।