নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে (WB Election Result 2026) বাংলার মসনদে বিজেপির জয় জয়কার। আর এই সাফল্যের কেন্দ্রে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২০ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার যে কঠিন সিদ্ধান্ত শুভেন্দু নিয়েছিলেন, আজকের ফলাফল তারই চূড়ান্ত সার্থকতা। তৃণমূলকে ‘প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি’ বলে দেওয়া তাঁর চ্যালেঞ্জ আজ পূর্ণতা পেল।
তৃণমূল ত্যাগ: একটি রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসে থাকলে শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষে রাজনৈতিক শীর্ষপদে পৌঁছানো অসম্ভব ছিল। এর পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ উঠে এসেছে:
-
বংশপরম্পরা ও আধিপত্য: শুভেন্দু বুঝতে পেরেছিলেন বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের বাইরে তৃণমূলের কর্তৃত্ব অন্য কারও হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই দলের হাল ধরবেন—এটি বুঝতে পেরে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের স্বার্থেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
-
আই প্যাক ও সাংগঠনিক সংঘাত: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৌশলে শুভেন্দুকে রাজ্য যুব সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে জেলা স্তরে সাংগঠনিক দায়িত্ব দিলেও অভিষেক ও ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা ‘আই প্যাক’-এর নিয়ন্ত্রণ তিনি মানতে পারেননি। তাঁর মতে, আই প্যাকের মাধ্যমেই অভিষেক দলকে নিয়ন্ত্রণ করতেন, যা প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের কোণঠাসা করে দিয়েছিল।
-
কলকাতায় রাজনীতিতে বাধা: তৃণমূলে থাকাকালীন শুভেন্দুকে কলকাতার রাজপথে মিছিল বা মিটিং করার অনুমতি দেওয়া হতো না। একপ্রকার জেলা স্তরেই তাঁর রাজনীতিকে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা হয়েছিল বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
বিজেপিতে উত্থান ও ২০২৬-এর লড়াই
২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু। ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি ৭৭টি আসনে আটকে গেলেও শুভেন্দুকে বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
-
৫ বছরের লড়াই: বিরোধী দলনেতা হিসেবে গত ৫ বছর রাজপথে নিরন্তর আন্দোলনের মাধ্যমে দলকে উজ্জীবিত রেখেছিলেন তিনি। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভোটের আগে সমস্ত স্তরের নেতাদের এক জায়গায় করতে তিনি সমর্থ হন।
-
জায়ান্ট কিলার: ২০২৬ নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী একই সঙ্গে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর আসন থেকে লড়াই করেন। দিনরাত এক করে প্রচার চালিয়ে উভয় কেন্দ্রেই তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন, যা তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পদের যোগ্যতম দাবিদার করে তুলেছে।
অমিত শাহর ভাষায়, শুভেন্দু অধিকারীর এই জয় বাংলার মানুষের বিশ্বাসের প্রতিফলন। ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাক্তন করা’র যে শপথ তিনি নিয়েছিলেন, আজ বিধানসভা নির্বাচনে জিতে তা বাস্তবায়িত করলেন শুভেন্দু অধিকারী।