নিউজ ডেস্ক: ইন্টারনেটের মহাসমুদ্রে আপনি যখনই কোনও লিঙ্কে ক্লিক করেন বা কোনও কিছু সার্চ করেন, তখনই সেখানে আপনার একটি ভার্চুয়াল পদচিহ্ন বা ‘ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট’ তৈরি হয়। আমরা অজান্তেই আমাদের পছন্দ-অপছন্দ, অবস্থান এবং ব্যক্তিগত তথ্যের এক বিশাল ভাণ্ডার বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সার্চ ইঞ্জিনের হাতে তুলে দিই। অনেক সময় এই তথ্যের অপব্যবহার করে হ্যাকাররা বা বিভিন্ন সংস্থা আপনাকে লক্ষ্য করে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন বা ফিশিং অ্যাটাক চালাতে পারে। আপনার এই ডিজিটাল পদচিহ্ন কীভাবে গোপন রাখবেন, তা নিয়ে জানুন বিশেষজ্ঞ মহলের পরামর্শ।
ইনকগনিটো মোড কি যথেষ্ট?
অনেকেই মনে করেন ব্রাউজারের ‘ইনকগনিটো’ বা ‘প্রাইভেট মোড’ ব্যবহার করলেই সব তথ্য গোপন থাকে। কিন্তু আসলে তা নয়। ইনকগনিটো মোড কেবল আপনার কম্পিউটারে হিস্ট্রি বা কুকিজ সেভ হওয়া বন্ধ করে। আপনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (ISP) বা আপনি যে ওয়েবসাইট ভিজিট করছেন, তারা কিন্তু আপনার গতিবিধি লক্ষ্য করতে পারে। তাই সম্পূর্ণ আড়ালে থাকতে ইনকগনিটো মোডের ওপর পুরোপুরি ভরসা করা উচিত নয়।
ভিপিএন (VPN)-এর ব্যবহার
অনলাইনে নিজের আসল পরিচয় ও লোকেশন লুকিয়ে রাখার অন্যতম সেরা উপায় হলো ‘ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক’ বা ভিপিএন। এটি আপনার ইন্টারনেটের তথ্যকে এনক্রিপ্ট করে দেয়, ফলে কেউ সহজে আপনার গতিবিধি ট্র্যাক করতে পারে না। বিশেষ করে পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় ভিপিএন ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।
কুকিজ (Cookies) ও ট্র্যাকিং ম্যানেজমেন্ট
অধিকাংশ ওয়েবসাইট আপনার ব্রাউজিং প্যাটার্ন বোঝার জন্য ‘কুকিজ’ ব্যবহার করে। নিয়মিতভাবে ব্রাউজারের সেটিংস থেকে ক্যাশ (Cache) ও কুকিজ ক্লিয়ার করার অভ্যাস তৈরি করুন। এছাড়া ‘ডকডকগো’ (DuckDuckGo)-র মতো প্রাইভেট সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করতে পারেন, যা আপনার সার্চ হিস্ট্রি কোথাও জমা রাখে না।
সোশ্যাল মিডিয়া ও থার্ড পার্টি অ্যাপ
আমরা অনেক সময় বিভিন্ন অ্যাপে লগ-ইন করার জন্য ফেসবুক বা গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করি। এর ফলে ওই অ্যাপগুলি আপনার অনেক ব্যক্তিগত তথ্য পেয়ে যায়। আপনার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের ‘প্রাইভেসি সেটিংস’ নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজন ছাড়া কোনও অচেনা থার্ড পার্টি অ্যাপকে অ্যাক্সেস দেবেন না। মনে রাখবেন, ডিজিটাল জগতে আপনার গোপনীয়তা বজায় রাখাই হলো নিজেকে নিরাপদ রাখার শ্রেষ্ঠ উপায়।