নিউজ ডেস্ক: মালদহের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামোয় বড়সড় রদবদল। জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঘাটতি মেটাতে একসঙ্গে ৪২ জন চিকিৎসক এবং ৩৬৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী পেল মালদহ জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। শনিবার মালদহ কলেজ অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন এবং জাতীয় আয়ুষ মিশনের অধীনে নবনিযুক্ত এই স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম, স্বাস্থ্য সচিব শরদ দ্বিবেদী, মালদহের জেলাশাসক প্রীতি গোয়েল এবং মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ্ত ভাদুড়ি।
জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, এই নতুন চিকিৎসকরা মালদহের বিভিন্ন পুরসভা এবং গ্রামীণ এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ফলে গ্রামীণ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে রক্ত পরীক্ষা-সহ অন্যান্য পরীক্ষা এখন থেকে অনেক বেশি নিয়মিত এবং দ্রুত হবে। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ্ত ভাদুড়ি জানান, এর ফলে সাধারণ মানুষ আরও উন্নত ও আধুনিক সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এদিনের নিয়োগ ঘিরে হালকা বিতর্কও দানা বেঁধেছে। নিয়োগের ‘ওয়েটিং লিস্ট’ বা প্রতীক্ষা তালিকায় কিছু অসঙ্গতি রয়েছে— এমন অভিযোগ তুলে অডিটোরিয়াম চত্বরে বিক্ষোভ দেখান কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী। যদিও সেই অভিযোগ খারিজ করে জেলাশাসক প্রীতি গোয়েল বলেন, “অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং সরকারি নিয়ম মেনেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে।”
এদিকে এই নিয়োগ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি-র রাজ্য সম্পাদক তথা ইংলিশবাজার পুরসভার বিরোধী দলনেতা অম্লান ভাদুড়ির কটাক্ষ, “রাজ্য সরকার এই নিয়োগ করেছে বলে যে দাবি করছে তা সঠিক নয়। পুরো নিয়োগ হয়েছে কেন্দ্রের অধীনস্থ জাতীয় স্বাস্থ্য ও আয়ুষ মিশনের অধীনে।” পাল্টা জবাব দিয়ে জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কেন্দ্র রাজ্যকে প্রাপ্য টাকা দেবে, এটাই নিয়ম। কেন্দ্র কোনও দয়া করছে না, মানুষের হকের টাকা দিচ্ছে।”
নিয়োগপত্র বিলি শেষে রাজ্যের শীর্ষ স্বাস্থ্য আধিকারিকরা মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালও পরিদর্শন করেন।