নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ওষুধের আকাল। শ্বাসকষ্ট নিরাময়ের জন্য অত্যন্ত জরুরি স্টেরয়েড জাতীয় ইঞ্জেকশন থেকে শুরু করে সাধারণ ইনহেলার— কিছুই মিলছে না হাসপাতালের ফার্মাসিতে। এমনকি হাসপাতালের ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানেও নেই পর্যাপ্ত মজুত। ফলে প্রাণ বাঁচাতে চড়া দামে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন মুমূর্ষু রোগীর আত্মীয়রা।
মেডিক্যাল কলেজহীন এই জেলার মানুষের একমাত্র ভরসা বালুরঘাট জেলা হাসপাতাল। কিন্তু সেখানেই এই পরিষেবা বিপর্যয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রোগীর পরিজনরা। জয়শ্রী দত্ত নামে এক রোগীর আত্মীয় জানান, বুধবার রাতে জরুরি ভিত্তিতে একটি ইঞ্জেকশন প্রেসক্রিপশনে লিখে দেন চিকিৎসক। কিন্তু হাসপাতাল চত্বরের কোথাও তা মেলেনি। দীর্ঘক্ষণ হন্যে হয়ে ঘোরার পর শেষমেশ চড়া দামে বাইরের দোকান থেকে তা জোগাড় করতে হয়।
হাসপাতালের এই সংকটের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন সুপার কৃষ্ণেন্দু বিকাশ বাগ। তিনি জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ বর্তমানে স্টকে নেই। তবে ইতিমধ্যেই অর্ডার দেওয়া হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। শীঘ্রই ওষুধ চলে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রের খবর, মূলত ভোটের ডামাডোলের কারণে ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। তবে রোগীদের অভিযোগ শুধু ওষুধেই সীমাবদ্ধ নেই। সঠিক সময়ে চিকিৎসকদের দেখা না মেলা এবং পরিষেবার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। মুমূর্ষু রোগীদের ক্ষেত্রে কয়েক মিনিটের দেরি যেখানে প্রাণঘাতী হতে পারে, সেখানে জীবনদায়ী ওষুধের এই আকাল নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত জেলাবাসী।