নিউজ ডেস্ক: অবশেষে নির্বাচন কমিশনের প্রবল চাপের মুখে নতিস্বীকার করল নবান্ন। ভোটার তালিকায় নাম তোলা নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্যের চার পদস্থ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবারই ছিল কমিশনের দেওয়া সময়সীমার শেষ দিন। সেই ডেডলাইন পার হওয়ার আগেই ওই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী।
ঘটনার সূত্রপাত রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন। অভিযোগ ওঠে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। নথিপত্র ছাড়াই বহু ‘ভুয়ো’ বা ‘ভুতুড়ে’ ভোটারের নাম তালিকায় ঢোকানোর অভিযোগ ওঠে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় তথাগত মণ্ডল, দেবোত্তম দত্তচৌধুরী, বিপ্লব সরকার এবং সুদীপ্ত দাস— এই চার আধিকারিকের নাম জড়ায়। তাঁদের সঙ্গে সুরজিৎ হালদার নামে এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে।
এই অনিয়ম সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে দিল্লির নির্বাচন সদন। গত বছরের অগস্ট মাস থেকেই রাজ্যকে দফায় দফায় চিঠি পাঠিয়ে ওই আধিকারিকদের সাসপেন্ড করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা (FIR) রুজু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও নবান্ন প্রথম দিকে এই পদক্ষেপ এড়াতে চেয়েছিল। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের পরামর্শ নিয়ে কমিশনকে পাল্টা জানানো হয়েছিল যে, আধিকারিকদের এই ভুল এফআইআর করার মতো গুরুতর অপরাধ নয়। কিন্তু কমিশন নিজের অবস্থানে অনড় থাকে। গত শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে তলব করে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে কড়া পদক্ষেপ করবে কমিশন।
সূত্রের খবর, বারুইপুর পূর্বের ইআরও এবং এইআরও হিসেবে কর্মরত দেবোত্তম ও তথাগত এবং ময়নার দায়িত্বে থাকা বিপ্লব ও সুদীপ্তের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। বর্তমানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারসহ ফুল বেঞ্চ অসমে রয়েছেন। সেখান থেকে কলকাতায় ফেরার পরই নবান্নের পাঠানো রিপোর্ট খতিয়ে দেখবে কমিশন। প্রশাসনিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।