নিউজ ডেস্ক: কলকাতা বন্দরের গোপন নথি ও ছবি পাকিস্তানের করাচিতে পাচার এবং জাল নোটের কারবার চালিয়ে এ দেশের অর্থনীতি পঙ্গু করার ষড়যন্ত্রীরা শেষ পর্যন্ত শ্রীঘরে। শুক্রবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতের মুখ্য বিচারক সুকুমার রায় এই আন্তর্জাতিক চক্রের চার পাণ্ডার সাজা ঘোষণা করলেন। মূল চক্রী তথা পাকিস্তানি নাগরিক মহম্মদ ইজাজ এবং তার দুই সঙ্গী আফসার আনসারি ও মহম্মদ জাহাঙ্গীরকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য এক অপরাধী শেখ বাদলকে দেওয়া হয়েছে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালে লালবাজারের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বন্দর এলাকায় হানা দেয়। সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয় ইরশাদ আনসারি ও তার পুত্র আফসারকে। ধৃতরা দু’জনেই বন্দরে ঠিকা শ্রমিকের কাজ করত, আর সেই সুযোগেই বন্দরের সংবেদনশীল এলাকার ছবি তারা সীমান্ত পার করে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিত। এরপরই তদন্তে উঠে আসে পাকিস্তানি গুপ্তচর মহম্মদ ইজাজের নাম। কলকাতায় ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকা এই পাক নাগরিকের মাধ্যমেই চলত গুপ্তচরবৃত্তি ও জাল নোটের কারবার। ইজাজকে জেরার সূত্র ধরেই জালে পড়ে তার দুই শাগরেদ জাহাঙ্গীর ও বাদল। মামলা চলাকালীন মূল অভিযুক্তদের এক জন ইরশাদ আনসারির মৃত্যু হয়েছে।
এ দিন বিচারক সাজা ঘোষণার পাশাপাশি প্রত্যেককে মোটা টাকা জরিমানারও নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত জানিয়েছে, জেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেই পাকিস্তানি নাগরিক মহম্মদ ইজাজকে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নিজের দেশে ‘পুশ ব্যাক’ করতে হবে। সরকারি কৌঁসুলি দীপঙ্কর কুণ্ডু ও বিশ্বজিৎ ঠাকুরতা জানান, দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর আঘাত হানার এই গভীর ষড়যন্ত্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে সফল হয়েছে পুলিশ। আদালতের এই কঠোর রায়ে স্বভাবতই খুশি তদন্তকারীরা।