নিউজ ডেস্ক: খেলতে খেলতে অসাবধানতাবশত গিলে ফেলেছিল একটি পিন। গত দু’দিন ধরে অসহ্য গলা ব্যথা আর খাবার গিলতে সমস্যায় ছটফট করছিল কলকাতার বৌবাজারের বাসিন্দা কিশোরী নাজদা পারভিন। শেষ পর্যন্ত কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের তৎপরতায় ও জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এল সে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, বুধবার বিকেলে কিশোরীকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। এক্স-রে এবং সিটি স্ক্যান করার পরেই চক্ষু চড়কগাছ হয় চিকিৎসকদের। দেখা যায়, কিশোরীর শ্বাসনালির গভীরে আটকে রয়েছে একটি সুচালো পিন। আশ্চর্যের বিষয় হল, পিনটি শ্বাসনালিতে আটকে থাকা সত্ত্বেও কিশোরীর কোনও রকম শ্বাসকষ্টের উপসর্গ ছিল না। ফলে প্রথমদিকে বিষয়টি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি পরিজনেরা।
বৃহস্পতিবার সকালে ইএনটি বিভাগের চিকিৎসক দীপ্তাংশু মুখোপাধ্যায় এবং অ্যানাস্থেসিওলজি বিভাগের দেবাশিস ঘোষের নেতৃত্বে একটি বিশেষ চিকিৎসক দল গঠিত হয়। ‘রিজিড ব্রঙ্কোস্কপি’ পদ্ধতিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শ্বাসনালি থেকে পিনটি বের করে আনা হয়। চিকিৎসকদের মতে, সামান্য এদিক-ওদিক হলেই ফুসফুস বা সংলগ্ন রক্তনালিতে বড়সড় ক্ষত হতে পারত।
বর্তমানে নাজদা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক দীপ্তাংশু মুখোপাধ্যায়। তবে অস্ত্রোপচার পরবর্তী কোনও জটিলতা এড়াতে তাকে আপাতত ২৪ ঘণ্টা কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বাড়ির মেয়ের এই পুনর্জন্ম দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে পারভিনের পরিবার।