নিজস্ব সংবাদদাতা, বিধাননগর: কখনও ব্যাংক ম্যানেজার সেজে ফোন, কখনও আবার পুরনো বিমা ‘ম্যাচুরিটি’র লোভনীয় হাতছানি— প্রতারকদের পাতা জালে পা দিয়ে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৩৩ লক্ষাধিক টাকা খোয়ালেন রাজারহাট ও নিউটাউনের দুই বাসিন্দা। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় পর পর দু’টি অভিযোগ দায়ের হলেও এখনও পর্যন্ত এই চক্রের কাউকেই পাকড়াও করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, রাজারহাটের বাসিন্দা এক ব্যক্তির মোবাইলে ফোন আসে এক ‘ব্যাংক ম্যানেজারে’র। কেওয়াইসি (KYC) আপডেট না করলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে বলে তাঁকে ভয় দেখানো হয়। বাড়িতে বসেই অনলাইনে সেই কাজ সেরে নেওয়ার টোপ দিয়ে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে একটি লিঙ্ক পাঠায় প্রতারকরা। সরল বিশ্বাসে সেই লিঙ্কে ক্লিক করে ফর্ম ভর্তি করতেই শুরু হয় ম্যাজিক! কয়েক মিনিটের মধ্যে পরপর ১৪টি মেসেজে দেখা যায়, রাজারহাটের ওই বাসিন্দার অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছে ১৬ লক্ষ টাকা।
অন্যদিকে, প্রায় একই কায়দায় ১৬ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকার প্রতারণার শিকার হয়েছেন নিউটাউনের এক আবাসিক। তাঁর একটি পুরনো বিমা পলিসি সচল করার নামে ফোন করে জনৈক ‘বিমা প্রতিনিধি’। জানানো হয়, নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আরটিজিএস (RTGS) করলে ম্যাচুরিটির মোটা টাকা হাতে পাবেন তিনি। সেই প্রলোভনে পা দিয়ে টাকা পাঠাতেই বেপাত্তা হয়ে যায় অভিযুক্তরা।
বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ ও বিশেষজ্ঞদের দাবি, কেওয়াইসি আপডেট বা বিমা নবীকরণের নামে এই ধরনের প্রতারণা গত কয়েক মাসে মারাত্মক বেড়েছে। পুলিশের পরামর্শ, ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা লিঙ্কে ক্লিক করার আগে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক হতে হবে। কোনো সন্দেহজনক ফোন এলে সরাসরি ব্যাংকের শাখায় গিয়ে যোগাযোগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।