নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: সমাজসেবী পরিচয়ের আড়ালে কি চলছিল ‘হাতুড়ে’ রাজ? পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়িতে এক বৃদ্ধের দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনায় এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠল। অভিযুক্ত দিলীপকুমার দাস নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যিনি নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দিনের পর দিন চক্ষু হাসপাতাল চালিয়ে আসছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের। এই ঘটনার জেরে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের নির্দেশে ইতিমধ্যেই তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে ওই হাসপাতালে।
আক্রান্ত সুধীর কোটাল (৬৩) কেশিয়াড়ির বৈরামপুর এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগ, চোখের সমস্যার কারণে তাঁরা কুকাই চক্ষু হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখানে বিশেষজ্ঞ কোনো চিকিৎসকের বদলে খোদ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা দিলীপকুমার দাসই সুধীরবাবুর অস্ত্রোপচার করেন। অভিযোগ, সেই অস্ত্রোপচারের পর থেকেই চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারান ওই বৃদ্ধ।
বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। পরিবারের তরফে জেলা স্বাস্থ্য দফতরে লিখিত অভিযোগ জানানো হলে তদন্ত শুরু হয়। স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা জানতে পারেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির উপযুক্ত চিকিৎসকের ডিগ্রি ছিল কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে দ্রুত হাসপাতালটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য দফতরের জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আপাতত ওই হাসপাতালের সমস্ত পরিষেবা বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি, কেন এই ধরণের ঘটনা ঘটল এবং হাসপাতালের বৈধতা নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে উপযুক্ত ব্যাখ্যা চেয়েছে প্রশাসন। সঠিক উত্তর না মিললে আইনি পদক্ষেপ আরও কঠোর হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।