নিউজ ডেস্ক: অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের রান্না করা খাবারে পড়েছিল মরা টিকটিকি। আর সেই বিষাক্ত খাবার খেয়েই অসুস্থ হয়ে পড়ল ১৫ জন শিশু। বৃহস্পতিবার সকালে রায়দিঘির নগেন্দ্রপুর উত্তরপাড়ার আইসিডিএস (ICDS) সেন্টারের এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে খবর পাওয়ামাত্রই সক্রিয় হন স্থানীয় বিধায়ক ডাঃ অলোক জলদাতা। তড়িঘড়ি অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে শিশুদের হাসপাতালে আনার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নিজেই তাঁদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে ওই কেন্দ্রে শিশুদের খিচুড়ি দেওয়া হয়েছিল। খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ কয়েকজন শিশু বমি করতে শুরু করে। অভিভাবকদের নজরে আসতেই দেখা যায়, খাবারের পাত্রের নিচে পড়ে রয়েছে একটি মরা টিকটিকি। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে। খবর পৌঁছায় বিধায়ক ডাঃ অলোক জলদাতার কাছে। পেশায় চিকিৎসক বিধায়ক কালক্ষেপ না করে দ্রুত নিজস্ব উদ্যোগে গ্রামে অ্যাম্বুলেন্স পাঠান। অসুস্থ শিশুদের উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় রায়দিঘি গ্রামীণ হাসপাতালে।
হাসপাতালে শিশুরা পৌঁছানোর আগেই সেখানে হাজির হন বিধায়ক। এরপর নিজেই শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টা হাসপাতালে রেখে সুস্থ বোধ করায় বিকেলে শিশুদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বিধায়ক বলেন, “শিশুদের অসুস্থতার কথা শুনেই দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলাম। বর্তমানে সকলেই সুস্থ। তবে কী করে খাবারে টিকটিকি পড়ল এবং সেই খাবার শিশুদের দেওয়া হল, তা নিয়ে কেন্দ্রের কর্মীদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে।”
এদিন শিশুদের অসুস্থতার খবর চাউর হতেই উত্তেজিত অভিভাবকরা কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ দেখান। আইসিডিএস কর্মীদের চরম গাফিলতির অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। তবে বিধায়ক নিজে দাঁড়িয়ে থেকে যেভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন, তাতে কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছেন অভিভাবকরা। তাঁর এই তৎপর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন গ্রামবাসীরা।