নিউজ ডেস্ক: ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বরের সেই অভিশপ্ত রাত আজও ভারতবাসীর স্মৃতিতে দগদগে ক্ষত হয়ে আছে। আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে সেই হৃদয়ভঙ্গের যন্ত্রণাই যেন রবিবার রাতে বিজয়োল্লাসে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেল। নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে ধ্বংস করে দিয়ে প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়ল টিম ইন্ডিয়া। একইসঙ্গে প্রথম দল হিসেবে পরপর দু’বার এই ট্রফি জিতে বিশ্বক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করল ভারত। গৌতম গম্ভীর কোচ হিসেবে ফাইনালে পা রাখা মানেই ভারতের ট্রফি জয়— এই চেনা সমীকরণ আজও অটুট রইল।
ব্যাটিং তাণ্ডবে রেকর্ডের পাহাড়: টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫৫ রান তোলে ভারত, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারতের সর্বোচ্চ স্কোর। ইনিংসের শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন। প্রথম উইকেটে মাত্র ৭.১ ওভারে ৯৮ রান যোগ করেন তাঁরা। অভিষেক ২১ বলে ৫২ রান করে আউট হলেও সঞ্জু ৪৬ বলে ৮৯ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। দ্বিতীয় উইকেটে সঞ্জুর সঙ্গে জুটি বেঁধে ২৫ বলে ৫৪ রান তোলেন ইশান কিষান। ইনিংসের শেষের দিকে শিবম দুবে মাত্র ৮ বলে অপরাজিত ২৬ রান করে ভারতের স্কোরকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যান।
বুমরাহ-অক্ষরের স্পেলে খড়কুটোর মতো উড়ল কিউয়িরা: ২৫৬ রানের পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা মন্দ করেনি নিউজিল্যান্ড। তবে প্রথম ওভারে ক্যাচ ফসকানো এবং দ্বিতীয় ওভারে ২০ রান হজম করার পর অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ‘অক্ষর-ফাটকা’ কাজ করে যায়। বিধ্বংসী ফিন অ্যালেনকে আউট করে কিউয়ি শিবিরে প্রথম ধাক্কা দেন অক্ষর প্যাটেল। পরের ওভারেই বল হাতে ম্যাজিক দেখান জসপ্রীত বুমরাহ। ইশানের দুর্ধর্ষ ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন রাচিন রবীন্দ্র।
মিডল অর্ডারে টিম সেফার্ত ২৬ বলে ৫২ রান করে লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও বরুণ চক্রবর্তীর শিকার হয়ে ফেরেন তিনি। বল হাতে এদিনও আগুনে মেজাজে ছিলেন বুমরাহ। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে কোনও পেসারের সেরা বোলিং ফিগার গড়লেন তিনি। ৩ উইকেট নিয়ে তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন অক্ষর প্যাটেল। শেষ পর্যন্ত ১৫৯ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। ২০২৪-এ রোহিতের পর ২০২৬-এ সূর্যকুমারের হাত ধরে ফের বিশ্বসেরার মুকুট উঠল ভারতের মাথায়।