নিউজ ডেস্ক: ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই রক্ত ঝরল এশীয় হাইওয়ে-৪৮-এ। শনিবার সকালে গয়েরকাটা চা বাগানের বাঁশ লাইনের সামনে এক ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক প্রৌঢ়া চা শ্রমিক। মৃতার নাম পতনু খাচুয়া (৫৫)। এই ঘটনায় আরও দুই মহিলা শ্রমিক গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। ঘাতক লরিটির বেপরোয়া গতিই এই অকাল মৃত্যুর কারণ বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে চা বাগানের এক দল শ্রমিক যখন কাজের উদ্দেশ্যে রাস্তা পার হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ধূপগুড়ি অভিমুখে যাওয়া একটি দ্রুতগামী লরি তিনজনকে পিষে দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পতনু খাচুয়ার। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আফ্রিলা লাকড়া ও রাজকুমারি বাড়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই ঘটনার খবর চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন চা বাগানের শ্রমিকরা।
দুর্ঘটনার প্রতিবাদে এবং এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ধূপগুড়ি-বীরপাড়া গামী এশীয় হাইওয়ে অবরোধ করেন কয়েকশো শ্রমিক। প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল স্তব্ধ থাকায় হাইওয়ের দু’দিকে লরি ও বাসের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বানারহাট থানার আইসি সুরজ থাপা ও ধূপগুড়ি মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অরিন্দম পাল চৌধুরীর নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
পুলিশি হস্তক্ষেপে হাইওয়ের অবরোধ উঠলেও বিক্ষোভের আঁচ কমেনি। শ্রমিকরা পরে গয়েরকাটা ফ্যাক্টরির সামনে গিয়ে পুনরায় বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক লরিটিকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে। বাগানের সামনে যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য দ্রুত ট্রাফিক ব্যারিয়ার বসানোর কাজ শুরু করার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।