নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক স্তরে ক্রিকেট দুনিয়ার মহারথীদের উদ্বেগ ও লাগাতার চাপের মুখে অবশেষে নতিস্বীকার করল পাকিস্তান সরকার। চোখের চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেল থেকে কড়া নিরাপত্তায় ইসলামাবাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাহবাজ শরিফ সরকারকে চিঠি দিয়েছিলেন সুনীল গাওস্কর, কপিল দেবের মতো ১৪ জন কিংবদন্তি ক্রিকেটার। সেই আবেদনের পরেই মঙ্গলবার ইমরানের ডান চোখের রেটিনায় অস্ত্রোপচার করা হয়।
২০২৩ সাল থেকে জেলবন্দি ইমরানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে গত মাসে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল তাঁর পরিবার। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি ‘সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেন অক্লুশন’-এ আক্রান্ত। মঙ্গলবার তাঁকে ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (PIMS)-এ নিয়ে যাওয়া হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা তাঁকে ‘ভাসকুলার এন্ডোথেলিয়াল গ্রোথ ফ্যাক্টর’ (VEGF) রোধী ইঞ্জেকশন দেন। হাসপাতালের চিকিৎসকদের দাবি, ইঞ্জেকশন দেওয়ার আগে ইমরানের হৃদ্যন্ত্রের পরীক্ষা, ইসিজি এবং ইকোকার্ডিওগ্রাফি করানো হয়েছিল, যার রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে।
ইমরানের দল পিটিআই (পাকিস্তান তেহরিক-এ-ইনসাফ) অবশ্য এই চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই ‘স্বচ্ছতা’র দাবি তুলে সরব হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আল-শিফার মতো বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার আবেদন জানানো হলেও সরকার তা শোনেনি বলে অভিযোগ। যদিও পাকিস্তানের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধরি সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে জানিয়েছেন, আইনি প্রোটোকল মেনেই অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ইমরানের ‘ডে কেয়ার’ অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং তাঁর দৃষ্টিশক্তি আগের চেয়ে উন্নত।
উল্লেখ্য, ক্রিকেট মাঠের একসময়ের লড়াকু অধিনায়ক ইমরানের জন্য সীমানা ছাড়িয়ে একজোট হয়েছেন গ্রেগ চ্যাপেল, মাইকেল আথারটন, ক্লাইভ লয়েড এবং স্টিভ ওয়া-র মতো তারকারাও। তাঁদের মানবিক আবেদনের জেরেই মূলত এই চিকিৎসার তৎপরতা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। চিকিৎসকদের মতে, আগামী ২৪ মার্চ তাঁকে তৃতীয় দফার ইঞ্জেকশন দেওয়া হবে। আপাতত অস্ত্রোপচার শেষে তাঁকে ফের আদিয়ালা জেলের সেলে পাঠানো হয়েছে।