নিউজ ডেস্ক: শিক্ষক নিয়োগের টোপ দিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল খোদ তিলোত্তমার বুকে। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের ভিডিয়ো করে ব্ল্যাকমেইল করার পাশাপাশি ওই তরুণীকে ভিন রাজ্যে নিয়ে গিয়ে ‘যৌন ব্যবসায়’ নামানোর চেষ্টার মতো বিস্ফোরক তথ্যও উঠে এসেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার হেস্টিংস থানা এলাকায়। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই হেস্টিংস থানার পুলিশ অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।
বিশ্বাস ও প্রতারণার ফাঁদ
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগকারিনী ওই তরুণীর এক দূর সম্পর্কের দেওর তাঁকে শিক্ষকতার চাকরির খবর দিয়েছিল। প্রভাবশালী মহলে যোগাযোগ থাকায় সহজেই চাকরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সে। সেই কথা অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে একটি বেসরকারি স্কুলে ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হন ওই গৃহবধূ। দেওর তাঁকে একটি গাড়িতে তোলে, যেখানে আগে থেকেই আরও এক যুবক বসে ছিল। অভিযোগ, হেস্টিংস থানা এলাকায় পৌঁছে গাড়ি থামিয়ে ওই তরুণীকে নরম পানীয় খেতে দেওয়া হয়। তা পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়েন।
ব্ল্যাকমেইল ও জামশেদপুরে নিগ্রহ
তরুণীর অভিযোগ, অচৈতন্য অবস্থায় থাকাকালীন ওই গাড়ির মধ্যেই অভিযুক্তরা তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। জ্ঞান ফেরার পর তাঁকে গণধর্ষণের ভিডিয়ো দেখানো হয় এবং তা সমাজমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল শুরু করে অভিযুক্তরা। সেই আতঙ্কেই ওই তরুণীকে জামশেদপুর যেতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগকারিনীর দাবি, জামশেদপুরের একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে সেখানে আরও দুই যুবক তাঁকে ধর্ষণ করে। পুরো বিষয়টি নিয়ে মুখ না খোলার জন্য লাগাতার প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় তাঁকে।
পুলিশের তৎপরতা
অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের গোটা বিষয়টি খুলে বলেন ওই তরুণী। এর পরেই লালবাজার ও কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার হেস্টিংস থানা গণধর্ষণের মামলা রুজু করেছে। তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষাও করানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অভিযুক্তদের মূল লক্ষ্য ছিল ওই গৃহবধূকে দিয়ে জোর করে যৌন ব্যবসা করানো। অভিযোগপত্রে নাম থাকা ওই দেওর এবং তাঁর শাগরেদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় হানা দিচ্ছে পুলিশ।