নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের চা বলয়ে বিজেপির বিজয়রথ অব্যাহত রইল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ২০২৬-এর মহারণেও আলিপুরদুয়ার জেলার পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রেই একচেটিয়া জয় ছিনিয়ে নিল গেরুয়া শিবির। শুধু জয় ধরে রাখাই নয়, গতবারের তুলনায় এবার জয়ের ব্যবধান কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চা বাগান অধ্যুষিত এই জেলায় তৃণমূলের সমস্ত ‘উন্নয়ন’ কার্ডকে ছাপিয়ে ফের ‘পদ্ম’ ঝড় আছড়ে পড়েছে।
এদিন সকাল থেকেই আলিপুরদুয়ার জেলার পাঁচটি কেন্দ্র— আলিপুরদুয়ার, মাদারিহাট, ফালাকাটা, কালচিনি ও কুমারগ্রামে বিজেপি প্রার্থীরা লিড নিতে শুরু করেন। আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রে বিজেপির পরিতোষ দাস এক নজিরবিহীন জয় হাসিল করেছেন। তিনি তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালকে রেকর্ড ৭০,৪২০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। পরিতোষ দাস পেয়েছেন ১,৪৩,২৪২ ভোট, যেখানে সুমনের ঝুলিতে গিয়েছে ৭২,৮২২ ভোট।
মাদারিহাট (ST) আসনেও বিজেপির দাপট অব্যাহত। সেখানে বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ লিম্বু প্রায় ৪০,৯১০ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূলের জয়প্রকাশ টোপ্পোকে পরাজিত করেছেন। ফালাকাটায় গতবার জয়ের ব্যবধান অত্যন্ত কম থাকলেও এবার বিজেপি প্রার্থী দীপক বর্মন ৪৫,৯৯৯ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। কালচিনিতে বিশাল লামা এবং কুমারগ্রামে মনোজ কুমার ওরাওঁ— দুজনেই গতবারের তুলনায় অনেক বেশি ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। কুমারগ্রামে বিজেপির জয়ের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২,৮৭৭।
এই বিপুল সাফল্য প্রসঙ্গে বিজেপির সাংসদ মনোজ টিগ্গা বলেন, “তৃণমূলের দুর্নীতি এবং চা বাগান এলাকায় মানুষের বঞ্চনার বিরুদ্ধেই এই জনরায়। পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট এবং চা শ্রমিকদের সমর্থন এবার আমাদের শক্তি দ্বিগুণ করেছে।” অন্যদিকে, তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা এই ফলাফলকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে স্বীকার করে নিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, উপ-নির্বাচনে মাদারিহাটে তৃণমূল জিতলেও মূল বিধানসভা নির্বাচনে চা বলয়ের মানুষের আস্থা ফিরে পেতে ব্যর্থ হয়েছে ঘাসফুল শিবির। আলিপুরদুয়ারে বিজেপির এই ৫-০ ক্লিন সুইপ উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইকে আরও কঠিন করে দিল।