বিশ্বজুড়ে বিরল খনিজ বা ‘ক্রিটিকাল মিনারেলস’-এর জোগান নিশ্চিত করতে এবং চিনের একাধিপত্য কমাতে একজোট হচ্ছে ভারত ও আমেরিকা। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর আমন্ত্রণে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে চলেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা দখলের পর জয়শঙ্করের এই সফর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
বৈঠকের মূল লক্ষ্য: বিরল খনিজ ও লিথিয়াম সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) এবং অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম তৈরির জন্য বিরল মৃত্তিকা (Rare Earth) ও লিথিয়াম অপরিহার্য। বর্তমানে এই খনিজের বাজারের সিংহভাগ চিনের দখলে। গত ৯ অক্টোবর চিন সরকার রফতানিতে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করায় আন্তর্জাতিক বাজারে লিথিয়াম ও কোবাল্টের জোগানে টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলা করতেই জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি ভারতকে এই বিশেষ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ওয়াশিংটন। লক্ষ্য হলো— চিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি বিকল্প ‘সাপ্লাই চেইন’ বা সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রস্তুতি: এই সফরের জমি আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। গত ১৩ জানুয়ারি মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনা সারেন জয়শঙ্কর। এরপর গত ২৬ জানুয়ারি দিল্লিতে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোরের সঙ্গেও তাঁর ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। সেখানে ইউক্রেন সংঘাত, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, রাশিয়ার তেল আমদানির জেরে ভারত বর্তমানে মার্কিন শুল্কের চাপে রয়েছে; জয়শঙ্করের এই সফরে সেই জট কাটারও ইঙ্গিত মিলতে পারে।
সফরের গুরুত্ব একনজরে:
-
বিরল খনিজ: খনিজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের ‘মিনারেলস সিকিউরিটি পার্টনারশিপ’ (MSP) এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন ‘প্যাক্স সিলিকা’ (Pax Silica)-তে যোগদানের সম্ভাবনা।
-
বাণিজ্যিক চুক্তি: দীর্ঘদিনের বকেয়া ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনার সুযোগ।
-
প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি: সেমিকন্ডাক্টর এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির আদান-প্রদান আরও বাড়ানো।