নিউজ ডেস্ক: উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া থানার লোচুগছ এলাকায় এক প্রৌঢ়ার রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার সকালে নিজের ঘর থেকেই উদ্ধার হয়েছে ওই মহিলার নিথর দেহ। ঘরের আলমারি খোলা এবং আসবাবপত্র লণ্ডভণ্ড থাকায় এটি নিছক মৃত্যু নাকি পরিকল্পিত খুন, তা নিয়ে দানা বেঁধেছে গভীর রহস্য। লুটপাটে বাধা দিতে গিয়েই ওই প্রৌঢ়াকে প্রাণ হারাতে হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মৃতার নাম জীবন্তি ওড়াও (৪২)। স্থানীয় সূত্রে খবর, লোচুগছ এলাকার শ্রমিক মহল্লার বাসিন্দা ওই মহিলা বিধবা ছিলেন। তাঁর দুই ছেলে কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে থাকেন। ফলে বাড়িতে তিনি একাই বসবাস করতেন। সোমবার সকালে দীর্ঘক্ষণ তাঁর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা তাঁকে ডাকতে যান। ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই তাঁরা দেখেন, বিছানায় নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে রয়েছেন জীবন্তি দেবী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মৃতার মুখের চোয়াল দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল। ঘরের আলমারি অগোছালো এবং জিনিসপত্র চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল। এই দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের প্রাথমিক অনুমান, গভীর রাতে দুষ্কৃতীরা সর্বস্ব লুট করার উদ্দেশ্যে বাড়িতে ঢুকেছিল। একলা পেয়ে ওই প্রৌঢ়ার ওপর হামলা চালানো হয় এবং সম্ভবত শ্বাসরোধ বা আঘাত করে তাঁকে খুন করা হয়েছে।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় চোপড়া থানার পুলিশ। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। ঘর অগোছালো থাকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এটি ডাকাতি করতে গিয়ে খুন নাকি এর পেছনে অন্য কোনও পুরনো শত্রুতা রয়েছে, সব দিকই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।