নিউজ ডেস্ক: দিল্লির মেট্রো স্টেশনে দেশবিরোধী পোস্টার সাঁটানো এবং জঙ্গিযোগের অভিযোগে কলকাতা থেকে মালদহের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। ধৃতের নাম উমর ফারুক, বাড়ি মানিকচক থানার গোপালপুর অঞ্চলের অশ্বিনটোলায়। শনিবার এই খবর গ্রামে পৌঁছতেই কার্যত বজ্রপাত হয়েছে উমরের পরিবারে। সপ্তম শ্রেণি পাশ এক সাধারণ নির্মাণ শ্রমিক কীভাবে এমন দেশবিরোধী চক্রে জড়িয়ে পড়তে পারে, তা ভেবেই কূল পাচ্ছেন না পরিজনেরা।
পরিবার সূত্রে খবর, দিনমজুর উমর গত কয়েক বছর ধরে দিল্লি এবং কলকাতায় শ্রমিকের কাজ করতেন। বাড়িতে অসুস্থ বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য মাসে হাজার পাঁচেক টাকা পাঠাতেন। উমরের স্ত্রী সেবি খাতুনের দাবি, রবিবার দিল্লি পুলিশ ফোন করে তাঁকে জানায় যে মেট্রো স্টেশনে পোস্টার লাগানোর জন্য উমরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ বা ‘আতঙ্কবাদী’ মামলা দেওয়া হয়েছে। হাউ হাউ করে কাঁদতে কাঁদতে সেবি বলেন, “স্বামী নির্দোষ, সে কিছুই জানে না। আদালতের কাছে আমরা বিচার চাইব।”
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মানিকচকে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, উমর শিক্ষিত যুবক এবং চাকরির চেষ্টা করছিলেন। তবে তাঁর আসল শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে গ্রামে ধন্দ রয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য মনিরুল শেখ জানিয়েছেন, উমর এরকম ছেলে নয় বলেই গ্রামের লোক জানেন।
এদিকে এই গ্রেফতারি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তর্জা। বিজেপির দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক গৌড়চন্দ্র মণ্ডলের কটাক্ষ, “বাংলা এখন জঙ্গিদের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে।” পাল্টা সুর চড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। মানিকচক ব্লক তৃণমূল সভাপতি মাহফুজুর রহমানের পাল্টা দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিকল্পনা করে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তবে সঠিক তদন্তের মাধ্যমেই সত্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সকলে।