নিউজ ডেস্ক: জন্ম থেকে বিশেষ ভাবে সক্ষম হওয়াটাই কি অভিশাপ ছিল একরত্তি শিশুটির কাছে? মেমারির মোড়লগ্রামে নিজের সন্তানকে শ্বাসরোধ করে খুন করার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন খোদ জন্মদাতা পিতা। অভিযুক্তের নাম সোনালাল মাণ্ডি। অভাবের সংসারে অসুস্থ সন্তানকে ‘বোঝা’ মনে করেই এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন তিনি— প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই অনুমান পুলিশের।
স্থানীয় সূত্রে খবর, জন্মের পর থেকেই ওই শিশুটি বিশেষ ভাবে সক্ষম ছিল। প্রসবের পর শারীরিক জটিলতায় মৃত্যু হয় শিশুর মায়ের। ফলে মাতৃহীন অসুস্থ সন্তানকে বড় করে তোলার সম্পূর্ণ দায়িত্ব এসে পড়ে বাবা সোনালালের কাঁধে। অভিযোগ, দিনের পর দিন অসুস্থ শিশুর দেখাশোনা করতে গিয়ে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। বহুবার সন্তানকে অনাথ আশ্রমে পাঠানোর চেষ্টা করেও বিফল হন সোনালাল। শেষ পর্যন্ত বুধবার নিজের ছেলেকে গ্রামের এক দিঘির পাড়ে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ করে খুন করেন তিনি। নিথর দেহটি সেখানেই ফেলে রেখে চম্পট দেন।
পরের দিন ভোরে দিঘির পাড়ে একটি শিশুর দেহ পড়ে থাকতে দেখে শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। তড়িঘড়ি মেমারি থানায় খবর দেন গ্রামবাসীরা। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার তদন্তে নেমে মৃত শিশুর বাবা সোনালালকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই ভেঙে পড়েন তিনি। নিজের হাতে ছেলেকে খুনের কথা স্বীকার করে নেন অভিযুক্ত।
এই পৈশাচিক ঘটনায় স্তম্ভিত মোরলগ্রামের বাসিন্দারা। দারিদ্র্য নাকি মানসিক অবসাদ— ঠিক কী কারণে একজন পিতা এমন নৃশংস হয়ে উঠলেন, তা খতিয়ে দেখছে মেমারি থানার পুলিশ। অভিযুক্ত বাবার বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।