নিউজ ডেস্ক: আবেদনপত্রে ফলাও করে লেখা ছিল, বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছে খোদ নিজের বাসভবনে। অথচ, বিয়ের কার্ডে ব্রাইডাল ভেনু বা অনুষ্ঠানের জায়গার উল্লেখই নেই! নথিপত্রের এই সামান্য গরমিলই ধরিয়ে দিল কেষ্টপুরের এক তরুণীর জালিয়াতি। রূপশ্রী প্রকল্পের এককালীন ২৫ হাজার টাকার লোভে নিজের এক বছর আগের বিয়ে গোপন করে ফের বিয়ের আবেদন করেছিলেন ওই তরুণী। তবে শেষরক্ষা হল না; বিধাননগর পুরসভার তৎপরতায় ভেস্তে গেল সেই জালিয়াতির ছক।
তদন্তে বেরিয়ে এল আসল সত্য: প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধাননগর পুরসভার কেষ্টপুর এলাকার এক তরুণী সম্প্রতি এক বৃদ্ধাকে নিয়ে সল্টলেকে পুরভবনে আবেদন জানাতে আসেন। নিজেকে অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান দাবি করে তিনি জানান, তাঁর বাবা রিকশাচালক এবং মা পরিচারিকার কাজ করেন। আগামী ৯ মার্চ তাঁর বিয়ে, তাই রূপশ্রীর অনুদান তাঁর অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু সন্দেহ দানা বাঁধে বিয়ের কার্ডে ভেনুর উল্লেখ না থাকায়। এর পরেই পুরসভার কর্মীরা সরেজমিনে তদন্তে যান কেষ্টপুরে। সেখানে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলতেই আকাশ থেকে পড়েন তাঁরা। প্রতিবেশীরা সাফ জানান, ওই তরুণীর বিয়ে হয়ে গিয়েছে গত বছরই।
অপরাধ স্বীকার ও কড়া সতর্কতা: প্রশাসনের টানা প্রশ্নের মুখে শেষমেশ ভেঙে পড়েন ওই তরুণী। তিনি স্বীকার করে নেন যে, রূপশ্রী প্রকল্পের সরকারি অনুদানের লোভে এবং আর্থিক অভাব মেটাতেই তিনি কার্ড ছাপিয়ে এক বছর পর ফের নতুন বিয়ের নাটক ফেঁদেছিলেন। জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় বিধাননগর পুরসভা কর্তৃপক্ষ তৎক্ষণাৎ ওই আবেদন বাতিল করেছে। যদিও তাঁর পারিবারিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এখনই আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া হলেও, তাঁকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
রূপশ্রীর নিয়মাবলী: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কেবলমাত্র প্রথম বিয়ের ক্ষেত্রেই রূপশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যায়। পরিবারের বার্ষিক আয় দেড় লক্ষ টাকার কম হতে হয় এবং আবেদনকারীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হয়। বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর আবেদন করার কোনও সংস্থান নেই। এই ঘটনার পর রূপশ্রী প্রকল্পের আবেদনপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও কড়াকড়ি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।