নিজস্ব সংবাদদাতা, তমলুক: সরস্বতী পুজোর উদযাপনের মাঝেই রক্তারক্তি কাণ্ড পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে। হলদিয়া-মেচেদা জাতীয় সড়কের ধারের একটি হোটেলের বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হল এক স্কুল শিক্ষিকার নিথর দেহ। একই ঘর থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর প্রেমিককেও। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের টানাপড়েন থেকে প্রেমিকাকে শ্বাসরোধ করে খুন করার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ওই যুবক। ধৃত যুবক ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ কবুল করেছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার বয়স ৩২ বছর। তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং পাঁশকুড়ার মেছোগ্রামের একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। বিবাহিতা ওই শিক্ষিকার পাঁচ বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। গত শুক্রবার সরস্বতী পুজোর দিন তিনি এক যুবকের সঙ্গে রামতারক এলাকার ওই হোটেলে ঘর ভাড়া নেন। রবিবার হোটেলের কর্মীরা কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশে খবর দিলে উদ্ধার হয় দেহটি।
ঘটনাপ্রস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখে, বিছানায় নিস্পন্দ অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ওই শিক্ষিকা। পাশেই কাতরাচ্ছেন তাঁর সঙ্গী। তড়িঘড়ি যুবককে উদ্ধার করে তমলুক মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। জেলা পুলিশের এক পদস্থ কর্তা সোমবার জানান, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বীকার করেছেন যে, হোটেলের ঘরে বচসা চলাকালীন তিনি রাগের মাথায় ওই যুবতীকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। পরে অনুশোচনা অথবা ধরা পড়ার ভয়ে নিজে কীটনাশক পান করে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন।”
পুলিশ মৃতা মহিলার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে। পরকীয়া সম্পর্কের জটিলতা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও পুরনো শত্রুতা কাজ করছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত জারি রেখেছে তমলুক থানার পুলিশ।