নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ দুই দশকের একাধিপত্যে ইতি। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা, যা একসময় বাম দুর্গ ভেঙে তৃণমূলের উত্থানের সোপান ছিল, সেই ‘ঘাসফুল’ গড়ে এবার থাবা বসাল বিজেপি। সোনারপুর দক্ষিণ থেকে গোসাবা, কিংবা সাগর থেকে কাকদ্বীপ— মমতার সাধের জেলায় গেরুয়া ঝড়ে একের পর এক উইকেট হারিয়েছে শাসক দল। জেলার ৩১টি আসনের মধ্যে গতবার ৩০টি তৃণমূলের দখলে থাকলেও, এবারের বিধানসভা ভোটে সেই সমীকরণ পুরোপুরি ওলটপালট হয়ে গিয়েছে।
এদিন গণনার শুরু থেকেই সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে সবার নজর ছিল। তৃণমূল প্রার্থী অভিনেত্রী লাভলি মৈত্রকে প্রতিটি রাউন্ডেই পিছনে ফেলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে যান বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। বিকেলের মধ্যেই তাঁর জয়ের ব্যবধান প্রায় ৩০ হাজারে পৌঁছে যায়। কার্যত একই চিত্র দেখা গিয়েছে গোসাবা কেন্দ্রেও। ভোটের আগে বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়া তৃণমূল সেখানে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। বিজেপি প্রার্থী বিকর্ণ নস্কর সন্ধ্যা নাগাদ প্রায় ১৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।
তবে রাজনৈতিক মহলে সবথেকে বড় চমক হিসেবে দেখা দিচ্ছে সাগর ও কাকদ্বীপের ফলাফল। ভোটের ঠিক আগে গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মাস্টারস্ট্রোক দিতে চেয়েছিলেন, ইভিএমে তার কোনও প্রতিফলন দেখা যায়নি। উন্নয়নের স্লোগানকে ছাপিয়ে সাগরের ভূমিপুত্র তথা মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরাকে পরাজিত করে পদ্ম পতাকা ওড়ালো বিজেপি। সোনারপুর উত্তর কেন্দ্রেও তৃণমূলকে সরিয়ে জয়ের সরণিতে নাম তুলে নিয়েছে গেরুয়া শিবির।
যদিও মহেশতলা, বজবজ এবং মেটিয়াবুরুজের মতো সংখ্যালঘু প্রধান এলাকাগুলোতে নিজেদের দাপট বজায় রেখেছে জোড়াফুল শিবির। কুলতলিতেও জয়ী হয়েছে তৃণমূল। তবে জেলায় বিজেপির এই উত্থান এবং তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে ফাটল ধরা আগামী দিনের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ‘অজেয়’ তকমা ঘুচিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মাটিতেও এখন গেরুয়া আবিরের দাপট।