নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের হাই-ভোল্টেজ লড়াই শুরুর আগেই তুঙ্গে উঠল প্রশাসনিক সংঘাত। নন্দীগ্রামের বিডিও সুরজিৎ রায়কে ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার (RO) করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তৃণমূলের তীব্র আপত্তির মুখে পিছু হটল নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, বুধবার রাতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ওই পদের জন্য বিকল্প তিনজনের নাম চাওয়া হয়েছে। যদিও রাজ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর থেকে এই বিষয়ে এখনও সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র হিসেবে ভবানীপুরের ওপর সারা দেশের নজর। এই কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে সুরজিৎ রায়ের নিয়োগ নিয়ে মঙ্গলবারই সরব হয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, “ইসি কার ইশারায় চলছে? ব্যাকডোর থেকে কেন খেলা হচ্ছে?” তৃণমূলের দাবি, সুরজিৎ রায় নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিডিও থাকাকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে কাজ করেছেন এবং তাঁর রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন এই নিয়োগকে ‘স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ’ নির্বাচনের পরিপন্থী বলে সরাসরি দিল্লির নির্বাচন সদনে চিঠি পাঠান।
তৃণমূলের এই লাগাতার চাপের মুখে শেষপর্যন্ত কমিশনের সচিব সুজিতকুমার মিশ্র নবান্নকে চিঠি দিয়ে বিকল্প নামের প্যানেল তলব করেছেন বলে খবর। এর আগে মঙ্গলবারই ৭৭ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদল করা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, নন্দীগ্রামের সেই ‘কাঁটা’ যাতে ভবানীপুরে প্রভাব না ফেলে, তার জন্যই শুরু থেকে আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েছে শাসকদল। এখন দেখার, নবান্নের পাঠানো তিন নামের মধ্যে থেকে কমিশন কাকে এই স্পর্শকাতর কেন্দ্রের দায়িত্বভার অর্পণ করে।