নিউজ ডেস্ক: ভুঁয়ো ভোটার রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন। বুথে আসা ভোটাররা আসল কি না, তা যাচাই করতে ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’ (Two-Step Verification) পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হলো। বিএলও (BLO) থেকে শুরু করে সেক্টর অফিসার— সকলকেই এই প্রক্রিয়া নির্ভুলভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি স্পর্শকাতর বুথগুলির সীমানা পাঁচিল না থাকা এবং পুলিশের কিউআরটি (QRT) প্ল্যান নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিশন।
ভুঁয়ো ভোটার রুখতে জোড়া রক্ষাকবচ: কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, এবার কেবল বিএলও-র দেওয়া চিরকুট বা পরিচয়পত্র দেখে সন্তুষ্ট হওয়া যাবে না। প্রথম ধাপে বিএলও ভোটারকে যাচাই করবেন। এরপর বুথের ভিতরে থাকা প্রিসাইডিং অফিসার দ্বিতীয়বার পরিচয়পত্র খুঁটিয়ে দেখবেন। এই ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’ পদ্ধতিতে কোনও ফাঁক রয়ে যাচ্ছে কি না, তার ওপর কড়া নজরদারি চালাবেন সেক্টর অফিসাররা। জালিয়াতি ধরা পড়লে যাতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তার জন্য স্থানীয় থানাকেও সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।
সীমানাহীন বুথ ও পুলিশের ‘মাথাব্যথা’: ২৯ এপ্রিল যে সমস্ত কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে, সেখানকার অধিকাংশ পোলিং বুথের কোনও নির্দিষ্ট সীমানা বা পাঁচিল নেই। এই বিষয়টি নিয়ে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও স্থানীয় থানাগুলি কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। সেক্টর অফিসার ও পুলিশের বৈঠকে কমিশন সাফ জানিয়েছে, বুথের সীমানা না থাকলে বহিরাগতদের প্রবেশ রোখা কঠিন হয়ে পড়বে। এমনকি বুথের ভিতরের একাধিক গেট বন্ধ করার ক্ষেত্রেও পুলিশের গাফিলতি ধরা পড়েছে। কমিশনের কড়া হুঁশিয়ারি— ভোটের দিন বুথের একাধিক গেট খোলা থাকলে সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বরখাস্ত করার মতো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
কিউআরটি প্ল্যান নিয়ে অনিশ্চয়তা: স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে কুইক রেসপন্স টিম বা কিউআরটি (QRT) কীভাবে মোতায়েন করা হবে এবং আপদকালীন পরিস্থিতিতে তাদের ভূমিকা কী হবে— সে বিষয়ে অধিকাংশ থানা এখনও কোনও সুনির্দিষ্ট ‘ব্লু-প্রিন্ট’ জমা দেয়নি। ফলে কোন এলাকায় কী ধরনের বাহিনী বা ফোর্স রাখা হবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না কমিশনের কর্তারা। এর ফলে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের সমস্ত থানাকে অবিলম্বে কিউআরটি প্ল্যান জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের এই নিত্যনতুন কড়া নির্দেশ আর সাসপেন্ড করার হুঁশিয়ারিতে এখন কার্যত ঘুম উড়েছে পুলিশকর্মীদের। ভোটের মুখে প্রশাসনিক মহলে এখন এই কড়াকড়িকে কেন্দ্র করেই চূড়ান্ত তৎপরতা তুঙ্গে।