নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রামের সেই বিরুলিয়া বাজার। গত বিধানসভা নির্বাচনে যেখানে খুঁটিতে লেগে চোট পেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সোমবার রাতে সেই খুঁটি ঘিরেই চলল গেরুয়া শিবিরের উন্মাদনা। এবার নন্দীগ্রামের পাশাপাশি খোদ ভবানীপুর কেন্দ্রেও বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নাম ঘোষণা হতেই বিরুলিয়া বাজারে গিয়ে সেই ‘ঐতিহাসিক’ খুঁটিতে ঘটা করে পুজো দিলেন বিজেপি কর্মীরা। যার মাধ্যমে মেদিনীপুরের ভূমিপুত্রকে জোড়া জয় এনে দেওয়ার শপথ নিল পদ্ম শিবির।
গত নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হওয়ার পর ভবানীপুর উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী পদ রক্ষা করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কিন্তু এবার লড়াই আরও কঠিন। কারণ, এবার শুভেন্দু লড়াই ছুঁড়ে দিয়েছেন মমতার খাসতালুক ভবানীপুরেও। সোমবার নাম ঘোষণা হতেই ব্যান্ড পার্টি নিয়ে পথে নামেন বিজেপি সমর্থকরা। তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি প্রলয় পাল বলেন, “সনাতন ধর্মের মানুষ কোনও শুভ কাজের আগে খুঁটি পুজো করে। মুখ্যমন্ত্রী যেখানে আঘাত পেয়েছিলেন বলে দাবি করেছিলেন, সেই খুঁটিতেই পুজো দিয়ে আমরা প্রচারের শুভ কাজ শুরু করলাম। মুখ্যমন্ত্রী যেখানেই দাঁড়ান না কেন, আমাদের নেতা তাঁকে বিদায় জানাবেন।”
বিজেপি নেতাদের কটাক্ষ, গতবার পায়ে প্লাস্টার নিয়ে প্রচার করলেও নন্দীগ্রামের মানুষ ‘নাটক’ ধরিয়ে দিয়েছিলেন। তবে তৃণমূলও বসে নেই। তমলুক সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুজিত রায় দাবি করেছেন, “নন্দীগ্রামে প্রার্থী যেই হোন না কেন, এবার হার নিশ্চিত শুভেন্দুর। বিজেপি নেতারা মহিলাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলেন, বাংলার মহিলারা তাঁদের এবার উচিত শিক্ষা দেবেন। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— দুই আসনেই হারবেন শুভেন্দু।”
একদিকে যখন নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী কে হবে তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, অন্যদিকে তখন দেওয়াল লিখন আর খুঁটি পুজোর মাধ্যমে প্রচারের পারদ তুঙ্গে তুলেছে গেরুয়া বাহিনী। ফল ঘোষণার পর আবির ওড়ানোর সুযোগ আর মিলবে না বলেই তৃণমূলের কটাক্ষ। তবে ভোট-যুদ্ধ শুরুর আগেই নন্দীগ্রামের সেই জং ধরা লোহার খুঁটি যে ফের বঙ্গ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এল, তা বলাই বাহুল্য।