নিউজ ডেস্ক: ফের রেলের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল মঙ্গলবারের অগ্নিকাণ্ড। কাটোয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল নবদ্বীপ ধাম স্টেশন। মঙ্গলবার দুপুরে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা কাটিহার-হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের একটি কামরায় আচমকা আগুন লেগে যাওয়ায় হুলস্থুল পড়ে যায় গোটা স্টেশন চত্বরে। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুন আর ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম। প্রাণভয়ে যাত্রীদের আর্তনাদ আর ছোটাছুটিতে মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় স্টেশন। রেলের তৎপরতায় বড় কোনো প্রাণহানি এড়ানো গেলেও এই ঘটনায় যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
রেল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে ট্রেনটি যখন নবদ্বীপ ধাম স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিল, ঠিক তখনই একটি কামরার নীচ থেকে গলগল করে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন উপস্থিত যাত্রীরা। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা কামরাটিকে গ্রাস করতে শুরু করে। ট্রেনের ভেতর তখন অনেক যাত্রী ছিলেন। আগুন দেখামাত্রই হুড়োহুড়ি করে ট্রেন থেকে নামার চেষ্টা করেন তাঁরা। ধোঁয়ার দাপটে প্ল্যাটফর্মে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্য হয়ে যায়। আগুনের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, অনেক যাত্রী তাঁদের মালপত্র কামরা থেকে বের করার সুযোগটুকুও পাননি।
খবর পেয়েই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রেলের উদ্ধারকারী দল ও দমকলের ইঞ্জিন। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে কামরাটির একাংশ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনার জেরে পূর্ব রেলের হাওড়া-কাটোয়া শাখায় ট্রেন চলাচল বেশ কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে। বিপাকে পড়েন হাজার হাজার নিত্যযাত্রী।
প্রাথমিক তদন্তে রেলের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড। তবে ঠিক কী কারণে বারংবার একই ধরণের দুর্ঘটনা ঘটছে, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনে ফরেনসিক পরীক্ষার সাহায্য নেওয়া হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, গত রবিবার সকালেই কাটোয়া স্টেশনে আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জারের একটি কামরা একইভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল। তিন দিনের ব্যবধানে একই শাখায় পরপর দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রেলের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন খাড়া হয়েছে।