নিউজ ডেস্ক: অন্ধকার নামলেই থমথমে হয়ে যাচ্ছে পথঘাট। মালদহের মিলকি ফাঁড়ির অধীনে থাকা গ্রামগুলিতে আতঙ্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে তিন মহিলার খুনের স্মৃতি এখনও টাটকা, তার মধ্যেই এবার নতুন উপদ্রব শুরু হয়েছে এলাকায়। কোথাও মাঝরাতে দরজা ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করছে দুষ্কৃতীরা, কোথাও আবার নিস্তব্ধ রাতে বাড়ির ছাদে আছড়ে পড়ছে ইট-পাথর। পুলিশের লাগাতার টহলের দাবিতেও স্বস্তি ফিরছে না বাসিন্দাদের মনে।
বিগত তিন সপ্তাহে এই এলাকায় চারজন মহিলার ওপর একই কায়দায় হামলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন গুরুতর জখম অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এলাকাবাসীর দাবি, ‘স্টোনম্যান’-এর সেই ভয়াবহ আতঙ্কের সুযোগ নিয়েই এবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে একদল দুষ্কৃতী। রবিবার রাতের প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর বিদ্যুৎহীনতার সুযোগ নিয়ে বাসুদেবপুর ও আনন্দমোহনপুর এলাকায় একাধিক বাড়িতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ। সোমবার সকালে বাসুদেবপুর গ্রামে ঢুকতেই দেখা গেল কড়া পাহারা। বহিরাগত কেউ গ্রামে ঢুকলেই সন্দেহের চোখে দেখছেন স্থানীয় যুবকরা।
বাসুদেবপুরের বাসিন্দা অচিন্ত্য মণ্ডলের কথায়, “রবিবার রাত ১১টা নাগাদ যখন বিদ্যুৎ ছিল না, তখন আমাদের দরজায় ধাক্কার শব্দ শুনি। দেখি কেউ টর্চ মেরে জানলা দিয়ে ঘরের ভেতর দেখার চেষ্টা করছে। চিৎকার করতেই সে চম্পট দেয়।” একই অভিজ্ঞতা আনন্দমোহনপুরের রাজু কর্মকারেরও। তাঁর বাড়িতে রাতের অন্ধকারে কে বা কারা ঢিল ছুড়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়রা বলছেন, বাড়ির পুরুষরা ঘরে আছেন কি না, তা যাচাই করতেই এই ঢিল ছোড়ার কৌশল নিচ্ছে দুষ্কৃতীরা।
আতঙ্কে ঘরের বাইরে বড় বাতি লাগিয়েছেন শ্যামলী মণ্ডলের মতো মহিলারা। তাঁদের সাফ কথা, “বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকলে একা থাকতে বুক কাঁপছে। আমরা মহিলারা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি।” যদিও পুলিশের দাবি, এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং রবিবার রাতেই পুলিশকর্মীরা স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে গোটা এলাকায় টহল দিয়েছেন। কিন্তু স্টোনম্যানের ছায়া আর দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য— এই দুইয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট মালদহের এই গ্রামগুলিতে এখন প্রতি মুহূর্ত কাটছে চরম উৎকণ্ঠায়।