নিউজ ডেস্ক: নেপালে ৭০ কোটি টাকার জালনোট-সহ গ্রেপ্তার হলেন কামারহাটির মেয়ে দীপা ধর ও তাঁর স্বামী অরিন্দম ধর। এই খবর জানাজানি হতেই উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটি ও বেলঘরিয়া চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে নেপালকে ‘ঘাঁটি’ করে জালনোটের আন্তর্জাতিক কারবার চালাচ্ছিলেন এই দম্পতি। তবে কেবল কারবারই নয়, কামারহাটি এলাকায় তাঁদের প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং জীবনযাপনের ধরণ দেখে চক্ষু চড়কগাছ স্থানীয়দের।
ফ্ল্যাটে রাশিয়ান নর্তকী ও টাকার খেলা: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কামারহাটি পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলঘরিয়া শরৎপল্লি এলাকায় দীপার বাপের বাড়ি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের বাসিন্দা অরিন্দমের সঙ্গে বিয়ের পর থেকেই তাঁদের প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে। বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটে মাঝেমধ্যেই মদের আসর বসত বলে অভিযোগ। এলাকাবাসীর দাবি, সেই আসরে আমন্ত্রিতদের মনোরঞ্জনের জন্য বিদেশ থেকে রাশিয়ান নর্তকীদের উড়িয়ে আনা হত। শুধু তাই নয়, এলাকার দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট— সর্বত্রই লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতেন এই দম্পতি।
প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগসাজশ? জালনোট চক্রের পাণ্ডাদের সঙ্গে এলাকার প্রভাবশালী নেতাদের সখ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ, বেলঘরিয়ার এক প্রভাবশালীকে নেপালে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া এবং ব্যবসায় বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করার নেপথ্যেও ছিল এই দম্পতির হাত। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সায়নদীপ মিত্র বলেন, “কোন ফ্ল্যাটে রাশিয়ান মহিলা এনে ড্যান্স করানো হত, কারা সেখানে যেত এবং জালনোটের কারবারে কার কার যোগ রয়েছে, পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে তা প্রকাশ্যে আনুক।”
শাসক দলের প্রতিক্রিয়া: তদন্তের দাবিতে সুর চড়িয়েছে শাসক দলও। কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা জানিয়েছেন, তাঁরাও চান নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসুক। নেপাল পুলিশের জালে ধরা পড়া এই দম্পতির সঙ্গে এ রাজ্যে আর কার কার যোগসূত্র রয়েছে, এখন সেটাই খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।