নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে এক বিজেপি কর্মীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল। সোমবার গভীর রাতে দিঘিরপাড় বকুলতলা পঞ্চায়েতের মেনা এলাকায় বাড়ি থেকে মাত্র ৩০ মিটার দূরে একটি পুকুর পাড় থেকে কিশোর দাস (৩৯) নামে ওই ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভবে এই ঘটনাকে রাজনৈতিক খুন বলে দাবি করা হলেও, পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে পরকীয়া সম্পর্কের এক হাড়হিম করা কাহিনী। ঘটনায় নিহতের স্ত্রী অনিমা দাস এবং তাঁর প্রেমিক গোবিন্দ হালদারকে গ্রেফতার করেছে রায়দিঘি থানার পুলিশ।
মৃত কিশোর দাস পেশায় কৃষক ছিলেন এবং স্থানীয় ২১৬ নম্বর বুথের বিজেপির সহ-সভাপতি পদে যুক্ত ছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতিবেশী গোবিন্দ হালদারের সঙ্গে গত আড়াই বছর ধরে অনিমার অবৈধ সম্পর্ক চলছিল। গোবিন্দ বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও এই সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। কিশোর বিষয়টি জেনে ফেলায় পরিবারে অশান্তি চরম আকার নেয়। সেই ‘পথের কাঁটা’ সরাতেই সোমবার রাতে ছক কষে অনিমা। বাথরুমে যাওয়ার নাম করে কিশোরকে বাড়ির বাইরে নিয়ে আসতেই আগে থেকে ওত পেতে থাকা গোবিন্দ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কোপাতে শুরু করে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কিশোরের।
ঘটনার পর রায়দিঘির বিজেপি প্রার্থী পলাশ রানা নিহতের বাড়িতে গিয়ে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তোলেন। যদিও নিহতের আত্মীয় সুস্মিতা দাস স্পষ্ট জানিয়েছেন, এর পেছনে রাজনীতির কোনও যোগ নেই, বরং পারিবারিক বিবাদ ও পরকীয়া থেকেই এই খুন। ধৃত গোবিন্দ হালদার স্থানীয় তৃণমূল বুথ সভাপতির ভাই হওয়ায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হলেও, পুলিশি জেরায় অভিযুক্তরা অপরাধ স্বীকার করেছে। মথুরাপুর লোকসভার সাংসদ বাপি হালদার জানিয়েছেন, বিজেপি মিথ্যে অভিযোগ তুলে এলাকা অশান্ত করার চেষ্টা করছে। পুলিশ বর্তমানে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।