বর্ধমান-এক যুবকের শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে চক্ষু চড়কগাছ স্বাস্থ্যকর্তাদের। সেই সূত্র ধরে তদন্তে নামতেই পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে হদিশ মিলল অন্তত ৯০ জন এইচআইভি (HIV) পজ়িটিভ রোগীর। সোমবার জেলা প্রশাসনের দেওয়া এই তথ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। উদ্বেগজনক বিষয় হল, আক্রান্তদের মধ্যে শুধু বর্ধমান শহরেরই বাসিন্দা অন্তত ৩০ জন। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে দাবি, আক্রান্তদের অধিকাংশই উচ্চশিক্ষিত, আর্থিক ভাবে সচ্ছল এবং পেশাগত জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত যুবক।
সোমবার জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দফতরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় জানান, চিহ্নিত আক্রান্তদের সিংহভাগই সমকামী এবং তাঁরা অনিরাপদ যৌন সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। সম্প্রতি এক যুবকের দীর্ঘকালীন অসুস্থতার কারণে ডাক্তারি পরীক্ষা করালে তাঁর শরীরে এডস সৃষ্টিকারী ভাইরাস ধরা পড়ে। তাঁর সূত্র ধরেই সংশ্লিষ্ট মহলের অন্যদের খোঁজ শুরু করে স্বাস্থ্য দফতর। এর পরেই একের পর এক পজ়িটিভ রিপোর্ট আসতে শুরু করে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সমাজমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে একটি বড়সড় ‘যৌন র্যাকেট’ কাজ করছে, যার জাল ছড়িয়ে রয়েছে দেশজুড়ে। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রমের কথায়, ‘‘বারংবার প্রচার সত্ত্বেও সচেতনতার অভাব দেখা যাচ্ছে। শুধু পুরুষ নয়, মহিলা ও তরুণদের মধ্যেও সংক্রমণের হার বাড়ছে যা যথেষ্ট দুশ্চিন্তার।’’ শিশু চিকিৎসক আশরাফুল মির্জার মতে, রোগ লুকিয়ে না রেখে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন। কারণ বর্তমানে উন্নত ওষুধের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর এখন আক্রান্তদের গোপনীয়তা বজায় রেখে কাউন্সেলিং এবং পরীক্ষা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে।