নিউজ ডেস্ক: আড়াই বছর আগের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সেই রক্তক্ষয়ী স্মৃতি এখনও টাটকা। বোমা-গুলির লড়াইয়ে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল ভাঙড়। কলকাতা পুলিশ ভাঙড়ের দায়িত্ব নেওয়ার পরও পরিস্থিতি কি আদৌ বদলেছে? লোকসভা নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে এই প্রশ্নই এখন বড়ো হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ, গত এক সপ্তাহে ভাঙড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে ফের উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ বোমা ও বারুদ, যা ঘিরে ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। সাধারণ মানুষের মনে দানা বাঁধছে নতুন করে অশান্তির আশঙ্কা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সাত দিনে ভাঙড়ে ৫০টিরও বেশি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। দিন সাতেক আগে ভোগালি ২ নম্বর অঞ্চলের বানিয়াড়ায় একটি বাড়ি থেকে ২৮টি বোমা ও একটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই দোলের আগের রাতে বিজয়গঞ্জ বাজার থানার কৃষ্ণমাটি খালপাড় এলাকার একটি বাঁশবাগান থেকে আরও ২৬টি বোমা মেলে। যদিও এই ঘটনায় এখনও কেউ ধরা পড়েনি। মঙ্গলবার সকালে ফের কৃষ্ণমাটি পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা মামুদ আলি নামে এক যুবককে বাইকে করে দু’টি ড্রাম ভরতি বোমার মশলা নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতার করে পুলিশ।
এত বিপুল পরিমাণ যুদ্ধসম্ভার কেন মজুত করা হচ্ছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল ও আইএসএফ পরস্পরের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার অভিযোগ, আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকির নেতৃত্বেই ভাঙড়কে বারুদের স্তূপে পরিণত করা হচ্ছে। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই অশান্তি পাকানোর লক্ষ্যে বোমা-গুলি মজুত করছে আইএসএফ। পাল্টা অভিযোগে আইএসএফের জেলা সভাপতি আব্দুল মালেক মোল্লা বলেন, “সবই তৃণমূলের কারসাজি। ওরাই আমাদের ছেলেদের ঘরে বোমা, বোমার মশলা ঢুকিয়ে দিয়ে পুলিশকে খবর দিচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই সত্য সামনে আসবে।”