নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: সমাজমাধ্যমের প্রেমে পড়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিলেন যুবক। পরিকল্পনা ছিল সরস্বতী পুজোর দিনেই প্রথম দেখা, আর তার পরেই হাত ধরে অজানার পথে পাড়ি। কিন্তু সেই ‘বসন্ত উৎসব’ যে শেষমেশ থানার চৌকাঠে গিয়ে থামবে, তা বোধহয় দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি হাওড়ার বাগনানের বাসিন্দা শুভ্রাংশু (নাম পরিবর্তিত)। প্রেমিকার দেখা মেলা তো দূরস্থান, রহস্যময়ীর পাল্লায় পড়ে সারা রাত পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থানায় কাটাতে হল তাঁকে।
ফেসবুকের দেওয়ালে আলাপ, আর গত ছ’মাস ধরে ফোনে প্রেমালাপ। শুভ্রাংশুর সেই ‘রহস্যময়ী’ প্রেমিকা জানিয়েছিলেন তাঁর বাড়ি সবংয়ে। শর্ত ছিল, সরস্বতী পুজোর সকালেই হবে প্রথম সাক্ষাৎ, আর সেদিনই তাঁরা ঘর ছাড়বেন। সেই আকাশকুসুম কল্পনা নিয়ে বন্ধুকে সঙ্গী করে শুক্রবার সকালেই সেজেগুজে বেরিয়ে পড়েন যুবক। ডেবরা থেকে মোহাড়— বারবার বাস বদলে যখন সবংয়ের নির্দিষ্ট গ্রামে পৌঁছলেন, তখন বুক জুড়ে শুধুই দেখা করার উত্তেজনা।
কিন্তু সময় যত গড়ায়, শুভ্রাংশুর অপেক্ষার প্রহর তত দীর্ঘ হয়। চারিদিকে হলুদ শাড়ি আর পাঞ্জাবির ভিড় বাড়লেও দেখা নেই সেই ‘মানসী’র। বারবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে এক সময় ফোন ধরেন সেই যুবতী। তবে দেখা করতে আসার বদলে তিনি পরামর্শ দেন, ‘‘আজ হবে না, রাতটা কোথাও কাটিয়ে নাও। শনিবার ভোরে পালাব।’’ সেই আশাতেই শুক্রবার বিকেল ৩টে থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অচেনা গ্রামের এক চায়ের দোকানে বসে রইলেন দুই বন্ধু।
গ্রামের চায়ের দোকানে দুই যুবককে দীর্ঘক্ষণ অস্বাভাবিকভাবে বসে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় দোকানদারের। খবর যায় স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাছে। শেষে পুলিশ এসে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। প্রথমে সত্যি গোপন করার চেষ্টা করলেও পুলিশের জেরার মুখে ভেঙে পড়েন শুভ্রাংশু। সব শুনে পুলিশও হতবাক! রাতে তাঁদের নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে হাওড়া থেকে বন্ধুরা এসে তাঁদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান। ‘শাড়িতে প্রথম দেখা’ আর ‘পালিয়ে বিয়ে’র স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল বাগনানের ব্যর্থ প্রেমিকের।