নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল আদালত। শুক্রবার কলকাতার বিচার ভবনের এনআইএ বিশেষ আদালত এই মামলায় ধৃত ৬ জনকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। বাকি ২৫ জনকে পাঠানো হয়েছে জেল হেফাজতে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ‘ইউএপিএ’ (UAPA)-র মতো কঠোর ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।
এদিন আদালতে ধৃতদের জামিনের আবেদন জানিয়ে সরব হন তাঁদের আইনজীবীরা। ধৃতদের পক্ষে আইনজীবী ফজলে আহমেদ খান দাবি করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীনভাবে কঠোর আইনি ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে এনআইএ-র বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি শ্যামল ঘোষ জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে জানান, এই হিংসার ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর এবং এই মুহূর্তে অভিযুক্তরা মুক্তি পেলে তদন্তের গতিপ্রকৃতি ব্যাহত হতে পারে। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে বিচারক ধৃতদের জামিনের আর্জি খারিজ করে দেন।
আদালত সূত্রের খবর, ৬ অভিযুক্তকে আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত এনআইএ হেফাজত এবং ২৫ জনকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এই মামলার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে যাওয়ার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে রাজ্য পুলিশের হাত থেকে কেস ডায়েরি এনআইএ-কে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়। সেই মতো জেলা পুলিশ মামলার যাবতীয় নথি কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দিয়েছে।
বেলডাঙার ঘটনায় ধৃতদের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল এবং এই অশান্তির নেপথ্যে কোনও গভীর ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। ইউএপিএ ধারা প্রয়োগ করায় এই মামলার মোড় কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।