নিউজ ডেস্ক: সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের পরেও সুরাহা হল না। বরং বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও শয়ে শয়ে নাম বাদ পড়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের বাসিন্দারা। মঙ্গলবার সকাল থেকে কাকদ্বীপ বিধানসভার রামগোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিশাই মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান কয়েকশো গ্রামবাসী। তাঁদের দাবি, ষড়যন্ত্র করে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বাদ যাওয়া তালিকায় রয়েছেন খোদ ভারতীয় সেনার সদস্য ও স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবারও।
চার বুথেই ৩২৫ জন ব্রাত্য!
রামগোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৫টি বুথেই কমবেশি নাম বাদ পড়ার খবর মিলেছে। তবে চারটি বুথের পরিসংখ্যান রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো:
-
২১৯ নম্বর বুথ: ১৯১ জন বিচারাধীন ভোটারের মধ্যে ১৮১ জনের নামই ছেঁটে ফেলা হয়েছে।
-
২১৫ ও ২২৩ নম্বর বুথ: যথাক্রমে ৮৪ জনের মধ্যে ৮০ জন এবং ৫৩ জনের মধ্যে ৫০ জনের নাম বাদ গিয়েছে।
-
২২০ নম্বর বুথ: ১৭ জনের মধ্যে ১৪ জন ভোটাধিকার হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে মাত্র চারটি বুথেই ৩৪৫ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৩২৫ জনের নাম বাদ পড়েছে, যা নিয়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।
রাজনৈতিক তর্জা তুঙ্গে:
ভোটার তালিকা নিয়ে কমিশনের এই কড়াকড়িকে ঘিরে শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী চাপানউতোর:
-
তৃণমূল কংগ্রেস: প্রার্থী মন্টুরাম পাখিরা অভিযোগ করেন, “বংশপরম্পরায় বাস করা ভারতীয় নাগরিকদের নাম কেটে বিজেপিকে জেতানোর খেলা খেলছে কমিশন। আমরা এটা মানব না।”
-
কংগ্রেস: প্রার্থী নাসিরুদ্দিন আহমেদের দাবি, “এসআইআর (SIR)-এর নামে দেশজুড়ে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিকে টার্গেট করা হচ্ছে। কোনও বৈধ ভোটারকে বাদ দেওয়া যাবে না।”
-
বিজেপি: পাল্টা প্রার্থী দীপঙ্কর জানা বলেন, “কমিশন স্বাধীন সংস্থা। আমরা চাই প্রতিটা বৈধ ভোটারের নাম তালিকায় থাকুক, তবে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়া হোক।”
বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁরা এই দেশেরই ভূমিপুত্র। সব নথিপত্র জমা দেওয়ার পরেও কেন তাঁদের নাম তালিকা থেকে উধাও হল, তার স্পষ্ট জবাব চাইছেন তাঁরা। কাকদ্বীপের এই পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ হওয়ার আগে এই সমস্যার সমাধান না হলে বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গ্রামবাসীরা।