নিউজ ডেস্ক: অপরাধের ধরন পাল্টাচ্ছে। এখন কেবল শারীরিক নিগ্রহ নয়, সাইবার অপরাধীদের প্রধান অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকমেল’। কোনও ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিয়ো বা ছবি তুলে তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে লাগাতার হেনস্তা বা টাকা আদায়— এই চক্রের জালে ফেঁসে গিয়ে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনি একা নন। এই ধরণের অপরাধ মোকাবিলায় কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল (Cyber Cell) আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা দিতে বদ্ধপরিকর।
ডিজিটাল ব্ল্যাকমেলের মোকাবিলায় পুলিশের বিশেষ সহায়তা:
-
ডিজিটাল এভিডেন্স সংগ্রহ: ব্ল্যাকমেলের ক্ষেত্রে সবথেকে বড় অস্ত্র হলো তথ্যপ্রমাণ। আপনি ভয় পেয়ে মেসেজ বা ভিডিয়ো ডিলিট করে দিলেও সাইবার বিশেষজ্ঞরা ফরেনসিক টুলের মাধ্যমে সেই সব তথ্য পুনরুদ্ধার (Data Recovery) করতে পারেন। এটি অপরাধীকে শনাক্ত করতে এবং আদালতে দোষী সাব্যস্ত করতে সাহায্য করে।
-
সার্ভার থেকে ভিডিয়ো মোছা: কোনও ছবি বা ভিডিয়ো যদি অপরাধী ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে দিয়ে থাকে, তবে পুলিশ সরাসরি ফেসবুক, ইউটিউব বা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের নোডাল অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সেই লিঙ্ক বা কন্টেন্ট ব্লক করার ব্যবস্থা করে।
-
পরিচয় গোপন রাখা: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা এবং আইনি বিধি অনুযায়ী, বিশেষ করে নারী নিগ্রহের ঘটনায় অভিযোগকারীর নাম ও পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়। লালবাজারের সাইবার সেলে মহিলা অফিসারদের একটি বিশেষ দল থাকে, যাঁরা অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিষয়টির তদন্ত করেন।
-
আইটি অ্যাক্টে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬ই (গোপনীয়তা লঙ্ঘন) এবং ৬৭এ (অশ্লীল কন্টেন্ট প্রচার) ধারায় মামলা রুজু করে অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা রাখে সাইবার সেল।
অভিযোগ জানাবেন কীভাবে?
১. তাৎক্ষণিক হেল্পলাইন: সাইবার সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যায় ফোন করুন ১৯৩০ (1930) এই টোল-ফ্রি নম্বরে। ২. লালবাজার সাইবার সেল: সরাসরি লালবাজারে গিয়ে বা নিকটস্থ থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেন। এছাড়া অনলাইনে www.cybercrime.gov.in পোর্টালেও অভিযোগ নথিভুক্ত করা যায়। ৩. প্রমাণ মুছবেন না: অপরাধীর পাঠানো কল রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বা ইমেলের স্ক্রিনশট এবং অডিও ক্লিপ যত্ন করে সেভ করে রাখুন। এগুলিই তদন্তের প্রধান হাতিয়ার।