নিউজ ডেস্ক: ভুঁড়ি কমানোর জাদুকরী ওষুধের রমরমা কারবারে এবার রাশ টানল কেন্দ্র। সুষম ডায়েট, শরীরচর্চা বা জীবনশৈলীর পরিবর্তনকে গুরুত্ব না দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধকে ‘প্রোমোট’ করা আর চলবে না। ১০ মার্চ ওষুধ বিষয়ক দেশের শীর্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন’ (CDSCO) এক কড়া নির্দেশিকা জারি করে সমস্ত ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাকে সতর্ক করে দিয়েছে। এবার থেকে ওবেসিটি বা স্থূলত্ব কমানোর দোহাই দিয়ে কোনও ওষুধের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রচার করা যাবে না।
ইনফ্লুয়েন্সার ও রিল সংস্কৃতির ওপর নজরদারি: সম্প্রতি দেশজুড়ে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে স্থূলত্ব প্রতিরোধের নামে ওষুধের ব্যাপক প্রচার শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্যবহার করে অসংখ্য রিল ভাইরাল করা হচ্ছে, যেখানে পরোক্ষভাবে নির্দিষ্ট কিছু ব্র্যান্ডের ওষুধের গুণগান করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলার রাজীব সিং রঘুবংশী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে সমস্ত ওষুধ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কেনা যায় না , সেগুলির বিজ্ঞাপন বা প্রোমোশন আইনত দণ্ডনীয়। সোশ্যাল মিডিয়াকেও এই নিয়মের আওতাভুক্ত করা হয়েছে।
ওবেসিটির নামে ‘আতঙ্ক’ ও বিপণন: অভিযোগ উঠেছে, গত বছরের শুরু থেকেই বেশ কিছু বহুজাতিক সংস্থা ওবেসিটিকে নিছক শারীরিক অবস্থার বদলে ‘ভয়ঙ্কর রোগ’ হিসেবে তুলে ধরে আতঙ্ক ছড়াচ্ছিল। উদ্দেশ্য ছিল, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে তাদের বাজারজাত করা ওষুধ বিক্রির পথ প্রশস্ত করা। এমনকি জিএলপি ওয়ান (GLP-1) গোত্রের বেশ কিছু ওষুধের অনৈতিক প্রচার চালিয়ে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করা হয়েছে বলেও খবর। সম্প্রতি ওবেসিটি দিবস পালনের আড়ালেও এই বাণিজ্যিক স্বার্থ কাজ করছিল বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিশেষজ্ঞদের মত ও বিকল্প পথ: চিকিৎসকদের মতে, ওজন কমানোর জন্য ওষুধের ওপর নির্ভরতা স্বাস্থ্যের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। দেশের মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের বৃহত্তম সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ ফিজিশিয়ানস অফ ইন্ডিয়া’র (API) সর্বভারতীয় সভাপতি ডাঃ জ্যোতির্ময় পাল বলেন, “আমরা দেশজুড়ে ওবেসিটির বিরুদ্ধে নিরন্তর প্রচার চালাচ্ছি। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য কখনোই কোনও নির্দিষ্ট ওষুধের নাম প্রচার করা নয়। বরং আমরা জোর দিচ্ছি সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ডায়েট এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখার ওপর।” নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই নির্দেশিকার ফলে যথেচ্ছভাবে ওষুধ কেনা ও ব্যবহারের প্রবণতা কমবে বলেই আশা করছে চিকিৎসক মহল।