নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রশাসনিক অলিন্দে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তা। মেয়াদ ফুরনোর আগেই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সিভি আনন্দ বোস। বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার ঠিক আগেই তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগ রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন তিনি। পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার অনেক আগেই তাঁর এই প্রস্থান নিয়ে দিল্লির অলিন্দে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। তবে ঠিক কী কারণে এই পদত্যাগ, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত রাজভবন বা কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট কোনও কারণ জানানো হয়নি।
সূত্রের খবর, কলকাতায় নয়, বরং দিল্লিতে গিয়েই নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস। তাঁর এই আচমকা সরে দাঁড়ানোর পর পশ্চিমবঙ্গের অস্থায়ী রাজ্যপাল হচ্ছেন আর এন রবি। প্রাক্তন আইপিএস অফিসার আর এন রবি সিবিআই-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল পদে রয়েছেন। এবার তামিলনাড়ুর পাশাপাশি অতিরিক্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। তাঁরই তত্ত্বাবধানে সম্ভবত হতে চলেছে রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন।
রাজ্যপালের এই ইস্তফাকে কেন্দ্র করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জয়প্রকাশ মজুমদার সংবাদমাধ্যমে বলেন, “বিজেপির অঙ্গুলিহেলন ছাড়া এটা হতে পারে না। বিজেপি বিভিন্ন স্তরে এই ধরনের কাণ্ডকারখানা করে থাকে। এরপর যদি দেখা যায় রাজভবনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য আরএসএসের কাউকে নিয়ে আসা হয়েছে, তবে আমি অবাক হব না।” অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “কিছু কারণ নিশ্চয়ই আছে। সেটা আমি জেনে বলব।” বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “ওনার মেয়াদের পুরো সময়টা থাকলে সবাই আনন্দ পেত। তৃণমূল যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলছে সেটা করাই ওদের কাজ। রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি। তিনি পদত্যাগ করেছেন। নতুন কে রাজ্যপাল আসছেন সেটা এখন দেখার।” সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “কী কারণে পদত্যাগ করলেন, উনি নিজে করলেন নাকি করানো হল, সেটা দেখতে হবে।”