নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা সংশোধনের ঝড়ে ঘরছাড়া হওয়ার জোগাড় সুন্দরবন লাগোয়া কাকদ্বীপের কয়েক হাজার মানুষের। ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার পর প্রকাশিত তালিকায় নিজেদের নাম খুঁজে না পেয়ে দিশাহারা ভোটাররা বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভিড় জমালেন কাকদ্বীপ মহকুমা শাসকের (SDO) দপ্তরের সামনে। সামনেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন, অথচ দীর্ঘ কয়েক দশকের ভোটাধিকার রাতারাতি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রবীণ থেকে নবীন— সকলের চোখেই এখন চরম অনিশ্চয়তার ছাপ।
“কেন ব্রাত্য হলাম?”: প্রবীণদের হাহাকার
কাকদ্বীপের মহকুমা শাসকের দপ্তরে এদিন জমায়েত হওয়া মানুষের মুখে একটাই প্রশ্ন— কেন তাঁদের নাম বাদ পড়ল? ৭০ বছরের প্রবীণ ভোটার শেখ জিয়াদ আলি ধরা গলায় বলেন, “২০০২ সাল থেকে একটানা ভোট দিয়ে আসছি। কোনওদিন তো সমস্যা হয়নি। এবার হঠাৎ বলা হচ্ছে নাম ‘ডিলিট’ হয়ে গিয়েছে। ট্রাইব্যুনালে যেতে হবে শুনছি, কিন্তু সেটা কোথায়, কী করে যাব— কিছুই তো জানি না।” তাঁর মতো এমন হাজার হাজার মানুষ এখন এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে চক্কর কাটছেন।
রাজনীতির তরজা ও অভিযোগের পাহাড়:
ভোটের মুখে এই গণহারে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে কাকদ্বীপের রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে।
-
কংগ্রেসের তোপ: বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী নাসিরুদ্দিন আহমেদ এই প্রক্রিয়াকে ‘প্রহসন’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষকে চরম অসহায়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। বৈধ ভোটারদের বাদ দিয়ে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা হচ্ছে।
-
এসইউসিআই-এর অভিযোগ: দলের প্রার্থী ঝন্টু মাইতির দাবি, বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশন খুব অল্প সময়ে তড়িঘড়ি এই কাজ শেষ করতে গিয়ে এই বিপর্যয় ডেকে এনেছে। অবিলম্বে সমস্ত বৈধ ভোটারের নাম তালিকায় ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
-
বিজেপির অবস্থান: অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী দীপঙ্কর জানা একে পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি এও জানিয়েছেন যে, দল চায় না কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাক। যদি কারও নাম বাদ গিয়ে থাকে, তবে তাঁকে পুনরায় আবেদন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ:
প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের অভাব-অভিযোগ জানালেও কতটা সুরাহা মিলবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে সাধারণ মানুষের মনে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা থাকলেও, তার কার্যকারিতা ও পদ্ধতি নিয়ে এখনও স্পষ্ট ধারণা নেই গ্রামের প্রান্তিক ভোটারদের। এই পরিস্থিতিতে কাকদ্বীপের কয়েক হাজার মানুষ এখন নিজেদের নাগরিক পরিচয় ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে নামতে বাধ্য হয়েছেন।