নিউজ ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বাজার আগেই তিলোত্তমার রাজপথকে ‘ক্লিন’ করতে আঁটঘাঁট বেঁধে নামছে লালবাজার। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশের পর কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তের ৬৭ জন কুখ্যাত দুষ্কৃতীর একটি তালিকা তৈরি করেছেন গোয়েন্দারা। খুন, শ্যুটআউট থেকে শুরু করে তোলাবাজি— যাঁদের বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ রয়েছে, অথচ বর্তমানে জামিনে মুক্ত হয়ে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাঁদের গতিবিধির ওপর এখন চব্বিশ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ।
কমিশনের অসন্তোষ ও পুলিশের তৎপরতা:
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আসন্ন ভোট হতে হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। কিন্তু জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (NBW) থাকার পরেও বহু দুষ্কৃতী কেন এখনও জেলের বাইরে, তা নিয়ে পুলিশের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। লালবাজার সূত্রের খবর, খাতায়-কলমে যত সংখ্যক ওয়ারেন্ট দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তার অনেক কম কার্যকর হয়েছে। এই অসঙ্গতি দূর করতে এবার আদালতের নথির সঙ্গে থানার নথির চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছে কমিশন। চলতি সপ্তাহেই পুলিশ পর্যবেক্ষকরা কলকাতায় ফিরে এই বিষয়ে চূড়ান্ত বৈঠক করবেন।
গোয়েন্দাদের নজরে যারা:
লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ থেকে উত্তর— শহরের প্রতিটি পকেটের ‘ত্রাস’দের চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকায় হেভিওয়েট নামগুলির মধ্যে রয়েছে:
-
দক্ষিণ ও সংযুক্ত এলাকা: কসবা ও লেক এলাকার কুখ্যাত দুষ্কৃতী দিনু, তবলা বিশু এবং বাবুসোনা। এছাড়াও মুকুন্দপুর এলাকার বিনোদ পাতুরিয়া এবং আনন্দপুর-হাইল্যান্ড পার্ক এলাকার উদীয়মান দুষ্কৃতী ঢোলুর ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। দক্ষিণ কলকাতার আর এক দাপুটে দুষ্কৃতী বাপি হালদার ও ঘোর রাজুও রয়েছে এই তালিকায়।
-
মধ্য ও পূর্ব কলকাতা: একসময়ের দাপুটে দুষ্কৃতী উল্লু রাজু, সোনা এবং ট্যাংরা এলাকার ত্রাস ‘পেট কাটা’ বিনোদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
‘ভাড়াটে’ বাহিনী রুখতে কড়াকড়ি:
পুলিশের আশঙ্কা, ভোটের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে ‘ভাড়া খাটার’ জন্য এই দুষ্কৃতীদের ডাক পড়ে। অশান্তি পাকানো বা ভয় দেখানোর কাজে যাতে এদের ব্যবহার না করা যায়, তার জন্য আগাম গ্রেপ্তারের (Preventive Arrest) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদিও অভিযুক্তদের আইনজীবীদের দাবি, তাঁদের মক্কেলরা আদালতের দেওয়া জামিনের শর্ত মেনেই চলছেন। তবে লালবাজারের গোয়েন্দারা মনে করছেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়সড় কোনও অঘটন বা শ্যুটআউটের ঘটনা রুখতে এই ৬৭ জনের ডেরায় হানা দেওয়া জরুরি।
কলকাতা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের কথায়, “শান্তিপূর্ণ ভোট পরিচালনা আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ। কোনোভাবেই দুষ্কৃতীদের ভোটের ময়দান কাঁপানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।” আগামী কয়েক দিনে শহরজুড়ে নাকা চেকিং এবং দুষ্কৃতী দমন অভিযানে আরও গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।