নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট সুনিশ্চিত করতে এবার সংশোধনাগারগুলিতে নজরদারি আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। জেলের চার দেওয়ালের অন্দরে বসে যাতে কোনওভাবেই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা না যায়, তার জন্য একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে কমিশন।
তল্লাশি ও নিয়মিত রিপোর্ট
কমিশনের নির্দেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এখন থেকে রাজ্যের প্রতিটি সংশোধনাগারে নিয়মিত ‘সারপ্রাইজ চেক’ বা অতর্কিত তল্লাশি চালাতে হবে। এই তল্লাশি অভিযানের নেতৃত্ব দেবেন ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল (DIG) অথবা সুপারিন্টেনডেন্ট পদমর্যাদার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। শুধু তল্লাশিই নয়, সেই অভিযানের বিস্তারিত রিপোর্ট নিয়মিতভাবে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে পাঠাতে হবে।
বন্ধ প্যারোল ও অস্থায়ী মুক্তি
নির্বাচন চলাকালীন যাতে কোনও দাগী আসামী বা প্রভাবশালী বন্দি বাইরে বেরোতে না পারে, তার জন্য প্যারোল (Parole) ও ফার্লোর (Furlough) ওপর কার্যত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ভোটপর্ব মেটা পর্যন্ত কোনও বন্দিকে অস্থায়ী মুক্তি দেওয়া যাবে না। তবে অত্যন্ত বিশেষ ও মানবিক কারণে যদি কাউকে ছাড়ার প্রয়োজন হয়, তবে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন আধিকারিকের (DEO) থেকে লিখিত অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
জ্যামারে বিশেষ নজর
সংশোধনাগারগুলির অন্দরে মোবাইল ফোনের ব্যবহার রুখতে সিগন্যাল জ্যামারগুলির কার্যকারিতা প্রতিদিন পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জ্যামার অকেজো হয়ে থাকলে তা অবিলম্বে মেরামতির নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। প্রশাসনের লক্ষ্য— সংশোধনাগারের ভেতরে থেকেও যাতে কোনওভাবে বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ভোটদানে বাধা বা অশান্তি সৃষ্টি করা না যায়, তা নিশ্ছিদ্রভাবে নিশ্চিত করা।